মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি কৃষককে লাঞ্ছনার অভিযোগ, যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা স্থানীয়দের ক্ষোভ
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বান্দরসিং পাড়ায় এক পাহাড়ি কৃষককে লাঞ্ছনার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী বিশ্ব নার্থ চাকমা (পিতা: প্রফুল্ল কুমার চাকমা) পেশায় একজন কৃষক এবং ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মার্চ পাওয়াটিলা এলাকার একটি মেশিনে তেল নিতে গেলে তার সঙ্গে প্রথমে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
পরে ২৩ মার্চ ২০২৬ বিকেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং জেএসএস (সন্তু) পন্থী সশস্ত্র সদস্যরা তাকে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় স্থানীয় কার্ব্বারী বৃষ কেতু চাকমা ও ধন কাজী চাকমার হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।
এদিকে বান্দরসিং পাড়া, ভগবানটিলা, ফেনী এলাকা ও বগাপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ অবাধে চলাচল করলেও হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে তারা উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগাপাড়ায় রিনেশ চাকমার বাড়িতে দুই সেকশন সদস্য, বান্দরসিং এলাকায় ধন চাকমা ও মনি চাকমার বাড়িতে আরও দুই সেকশন এবং ভগবানটিলায় রিপন চাকমার বাড়িতে এক সেকশন সদস্য অবস্থান করছে। তারা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজেরাই রান্না করে খাচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ বান্দরসিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তারা সেখান থেকে সরে গেছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ভগবানটিলা-বান্দরসিং এলাকার প্লাটুন কমান্ডার দীপেন চাকমা ওরফে ‘দীঘল’ নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। সেনাবাহিনী ও বিজিবির সঙ্গে কথিত গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। যদিও তার অনুপস্থিতিতেও তার নেতৃত্বে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট দীঘিনালা উপজেলার নারাইছড়ি এলাকায় নিহত তরুণ বিকাশ চাকমা (নিকো)-এর ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকার করা হয়েছিল।
সার্বিকভাবে, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।