শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। সেই আধিপত্যের প্রতিফলনও এসেছে স্কোরবোর্ডে। আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ফ্লোরিয়ান বালোগানের দুর্দান্ত ফিনিশে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল নিয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে সুযোগের পর সুযোগ তৈরি করেও আরও অন্তত দুটি গোল করতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই বিরতিতে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। সেই চাপের ফল আসে মাত্র সপ্তম মিনিটে। ওয়েস্টন ম্যাককেনির পাস থেকে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক আক্রমণ গড়ে তোলেন।
দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি বল পাঠাতে চেয়েছিলেন সতীর্থের দিকে। কিন্তু সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ববাদিয়া। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
গোল হজমের পর কিছুটা গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। ১৪ মিনিটে তাদের প্রথম শট নেন হুলিও এনসিসো, তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের ধার আরও বাড়াতে থাকে। ফ্লোরিয়ান বালোগান ও সার্জিনিও ডেস্টকে ঘিরে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে ম্যাককেনির পাস থেকে বালোগান বল পেয়ে ডেস্টকে সুযোগ করে দেন। তবে ডেস্টের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক অরলান্দো গিল।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে দ্বিতীয় গোলের খুব কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাককেনির আরেকটি নিখুঁত পাস থেকে বালোগান বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
যদিও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাম প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা পুলিসিক নিখুঁত পাস বাড়ান বক্সের ভেতরে থাকা বালোগানের উদ্দেশে। ডিফেন্স লাইনের ঠিক পেছনে অবস্থান নেওয়া এই ফরোয়ার্ড প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। অফসাইডের কোনো সুযোগ না থাকায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।
দুই গোলে এগিয়ে গেলেও আরও বড় ব্যবধানে এগোনোর সুযোগ পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে ক্রিস রিচার্ডসের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর ৪৫ মিনিটে মালিক টিলম্যানের জোরালো শটও প্রতিহত করেন গিল।
ফলে প্রথমার্ধ শেষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও সুযোগ নষ্টের কারণে কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ম্যাচে ফিরতে হলে দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের আক্রমণভাগ ও রক্ষণ— দুই বিভাগেই অনেক বেশি কার্যকর হতে হবে প্যারাগুয়েকে।