খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রত্যুত্তর চাকমা এবং পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সঞ্চয় চাকমা ভারতের সীমান্তঘেঁষা দুর্গম ‘নারাইছড়ি’ এলাকায় অবস্থিত জেএসএসের গোপন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দীর্ঘ দুই মাসব্যাপী সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। প্রশিক্ষণ সমাপ্তি শেষে সম্প্রতি তারা পানছড়িতে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
আর্থিক দেনা-পাওনা ও নানাবিধ ব্যক্তিগত সংকটে জর্জরিত হয়ে এই দুই সাবেক জনপ্রতিনিধি আত্মরক্ষার্থে জেএসএসের সশস্ত্র শাখায় যোগদান করতে বাধ্য হন। বর্তমানে তারা এলাকায় ফিরে পাওনাদারদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করছেন এবং পার্বত্য অঞ্চলে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে সন্তু লারমা তাদের এই ব্যক্তিগত ও আর্থিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এদের ব্যবহার করছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিস্তারিত পরিচিতি-
১. প্রত্যুত্তর চাকমা (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান)
-পিতা: অনুপম চাকমা, মাতা: পূর্ণিমা চাকমা, স্ত্রী: রিনা চাকমা
-স্থায়ী ঠিকানা:গ্রাম: দুদুকছড়া, ২৪৪ নং লোগাং মৌজা, লোগাং ইউনিয়ন, পানছড়ি উপজেলা, খাগড়াছড়ি।
জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ৫৫১১৬৪৬৫৩০
ভোটার নম্বর: ৪৬০৫১৮৬৯২১৫৯
পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড: তিনি পানছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমার আপন ভাতিজা।
২. সঞ্চয় চাকমা (সাবেক ইউপি সদস্য)
পিতা: মৃত চিকন ময় চাকমা, মাতা: মৃত প্রগতি চাকমা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কিনাচান পাড়া, ২৪২ নং পুজগাং মৌজা, পানছড়ি ইউনিয়ন, পানছড়ি উপজেলা, খাগড়াছড়ি।
জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ৬৮৬১৪৫০৫৫৬
ভোটার নম্বর: ৪৬০৫৪৩৭১৯৭৪২
-সঞ্চয় চাকমার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড: জেএসএস (সন্তু) দলের সাবেক পিসিপির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক তুহিন চাকমার ছোট ভাই সঞ্চয় চাকমা। ২০০৭-২০০৮ সাথে জেএসএস দুই ভাগে বিভক্ত হলে তার বড় ভাই তুহিন চাকমা রাঙ্গামাটিতে পালিয়ে যায়। সেই পরে সাবেক মেম্বার সঞ্চয় চাকমা কৌশল বদলে সমাজপ্রিয় মাধ্যমে এলাকায় বসবাস করেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের দিকে তুহিন চাকমা দলীয় অর্থ আত্মসাৎ করে প্রথমে ভারতে পলায়ন করেন এবং পরবর্তীতে ফ্রান্সে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় দুই মাসের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যুত্তর চাকমা ও সঞ্চয় চাকমা বর্তমানে লোগাং ও পুজগাং এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকায় একটি অস্থিতিশীল ও নাশকতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে নিজেদের বিপুল অঙ্কের দেনা-পাওনার দায় থেকে মুক্তি পাওয়া।
এই দুই সাবেক জনপ্রতিনিধির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উগ্রপন্থী তৎপরতায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মন্তব্য করছেন যে, ক্ষমতার লোভ এবং অপরাধের আশ্রয় নিয়ে তারা নিজেদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে জেএসএস (সন্তু) দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ‘চিতপদাং’ বা পতন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন চলছে।