গদি ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে বিএনপির সঙ্গে সন্তু লারমার জেএসএসের সমঝোতা: নেতৃত্বে ঊষাতন ও ইনু চাকমা?
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, নিজের দলীয় অবস্থান, আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বজায় রাখতে বিএনপির সঙ্গে গোপন সমঝোতায় পৌঁছেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি সন্তু লারমা। আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে এই দুই দলের মধ্যে একটি কৌশলগত দরকষাকষি হয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে।
সমঝোতার নেপথ্যে ও শর্তসমূহ
স্থানীয় ও বিশেষ সূত্রের বরাতে জানা যায়, সন্তু লারমা মূলত তার সশস্ত্র দল ও আঞ্চলিক পরিষদের গদি টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এই সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে এই অলিখিত চুক্তির অংশ হিসেবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সূত্রমতে, সমঝোতা অনুযায়ী নিম্নোক্ত পদগুলোতে জেএসএস সমর্থিত ব্যক্তিদের নিয়োগের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে:
* পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড: এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন ঊষাতন তালুকদার।
সংরক্ষিত নারী আসন: সংরক্ষিত মহিলা এমপি হিসেবে ইনু চাকমা-কে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবনা রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর চাপ ও হুমকি
এদিকে, এই রাজনৈতিক সমঝোতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাঙ্গামাটির ও খাগড়াছড়ি নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জেএসএস ও বিএনপির এই আঁতাতের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিশেষ করে রাঙ্গামাটির ও খাগড়াছড়ি দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা এবং ধর্মজ্যোতি চাকমা অভিযোগ করেছেন যে, সন্তু লারমার নির্দেশে তার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক মাঠ ফাঁকা রাখার জন্যই এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা। তবে এখন পর্যন্ত জেএসএস বা বিএনপির পক্ষ থেকে এই সমঝোতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।