বান্দরবানে হামে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের আরও এক খুমী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সহোদর ভাই প্রাণ হারিয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) ফ্রেএং খুমী (৪)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই সে মারা যায়।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকায় শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

এর আগে গত ২৫ জুলাই হামে আক্রান্ত ফ্রেএং খুমীর বড় ভাই প্রেটংএং খুমী (৭) রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মারা যায়। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে মং সিং হাই মারমা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জেলার একমাত্র ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী চট্টগ্রামে পাঠাতে হচ্ছে। তিনি এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বান্দরবানের রুমা, থানচি ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে একাধিক শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এলাকায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত ওষুধ, টিকাদান কার্যক্রম এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।