খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সোনাইআগা পাড়ায় স্থানীয় পাহাড়ি ও সেটলার বাঙালিদের নিয়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি বৈঠক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে বৈঠকে সেনারা সেটলারদের দাবির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে
জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টার সময় ২টি গাড়িতে করে বিজিবির একদল সদস্য ও ৫টি গাড়িতে করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সোনাইআগা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যান। সেখানে তারা ‘ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির’ কথা বলে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালিদের ডেকে বৈঠক করেন।
উক্ত বৈঠকে হাচুক পাড়া ও নাঙ্গেল পাড়া গ্রামের বাসিন্দাদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়। তবে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা সবসময় সেটলার বাঙালিদের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে তারা বৈঠকে অংশ নেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে, সভায় অংশ নেওয়া সোনাইআগা এলাকার একাধিক পাহাড়ি বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘বৈঠকে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যেকার জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সেটেলারদের পক্ষাবলম্বন করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।’ তবে বক্তব্যের ধরণ কেমন ছিল সে বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট নাঙ্গেল পাড়ার বাসিন্দা শান্তি রঞ্জন চাকমার(৪৫) বসতভিটায় একদল সেটলার বাঙালি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে গাছপালা কাটার চেষ্টা চালায়। এতে শান্তি রঞ্জন ও স্থানীয় বাসিন্দারা একতাবদ্ধ হয়ে বাধা দিলে দখলকারী সেটলাররা পিছু হটে।
এছাড়া ওইদিন বিজিবির একদল সদস্য কয়েকজন সেটলারকে সাথে নিয়ে হাচুক পাড়ায় গিয়ে ঘোরাফেরা করে। তারা ঘরবাড়ির ছবি তোলে ও ভিডিও ধারণ করে। এ সময় তারা জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় পাহাড়িদের ওপর চাপ সৃষ্টিরও চেষ্টা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আজকে (২৭ আগস্ট) সোনাইআগা পাড়ায় বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, হাচুক ও নাঙ্গেল পাড়া এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল, সেটলার কর্তৃক জায়গা-জমি বেদখল চেষ্টার ঘটনায় পাহাড়িদের মধ্যে নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর ভয় জেঁকে বসেছে। ফলে তারা প্রতিনিয়ত উদ্বেগ ও আশঙ্কার মধ্যে দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা সেটলারদের পক্ষাবলম্বন না করে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।