খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনির স্মৃতিরক্ষায় নির্মিত স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দেয়ার প্রতিবাদে রাঙামাটির সাজেকে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৩টার সময় সাজেকের উজোবাজারে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলার নেতা কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে এই বিক্ষোভের আয়োজন করেন।
মিছিলটি উজোবাজারের ইউপিডিএফ কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে গঙ্গারাম ব্রীজ প্রদক্ষিণ করে আবার উজোবাজার এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
এতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি সমর জ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনে বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি সমরিতা চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি সুজয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল (শুক্রবার) বেলা ২টা ৩০ মিনিট সময়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সদরের বাবুপাড়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রথম শহীদ ৭০ বছরের বয়স্ক ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিরক্ষায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাটি দীঘিনালা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার ও এক সময়কার ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর সর্দার রাজিব চাকমার নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শাসকগোষ্ঠীর ইন্ধনে তিনি এই ঘৃণ্য কাজটি করেছেন বলে আমরা মনে করি।
তারা আরো বলেন, ১৯৯২ সালে ১৩ অক্টোবর শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দীঘিনালায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে সেনা-সেটলারের হামলায় শহীদ হন ভরদ্বাজ মুনি চাকমা। তিনি জাতীয় মুক্তির চেতনার প্রতীক। কারণ ৭০ বছর বয়সেও তিনি ঘরে বসে না থেকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্রদের প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। যারা ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙ্গে দিয়েছে তারা যে বর্তমানে সেনাবাহিনী ও শাসকগোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে তা প্রমাণ করেছে।
বক্তারা আরো বলেন, দীঘিনালা সদর এলাকায় দিন দুপুরে ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙ্গার অপরাধের দায় প্রশাসনকেও নিতে হবে। প্রশাসন চাইলে নিশ্চয় এটি ভেঙে ফেলা সম্ভব হতো না।
বক্তারা দাবি জানিয়ে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত রাজিব চাকমা-সহ যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভেঙে দেওয়া ভরদ্বাজ মুনির স্মৃতিস্তম্ভটি যথাস্থানে দ্রুত পুনঃনির্মাণ করতে হবে।