“জনগণের জন্য যারা জীবন দেন তারা অমর” শ্লোগানে স্বজাতির বসতি রক্ষার্থে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ-জুনান-রুবেল-ধনরঞ্জন-অনিকের স্মরণে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়িতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড় ১১টার সময় এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শুরুতে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর পিসিপির লক্ষীছড়ি উপজেলা সভাপতি প্রাচুর্য চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিত্রসেন চাকমার সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য দেন ইউপিডিএফে লক্ষীছড়ি উপজেলা সংগঠক নীরব চাকমা ও এলাকার যুব প্রতিনিধি গুরি মোহন চাকমা।
বক্তারা বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র সমাজসহ মুক্তিকামী জনগণ অংশগ্রহণ করেছিল। অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের পর জুম্ম জনগণ মনে করেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নিপীড়ন-নির্যাতন, বৈষম্য দূর হয়ে কিছুটা হলেও শান্তি ফিরবে। তারই প্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি অঙ্কনের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ের বৈষম্য দূর করার কথা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু এতে গ্রাফিতি মুছে দেয়াসহ নানা বাধা বিপত্তির কারণে জুম্ম শিক্ষার্থীদের প্লাটফরম “সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন’ ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খাগড়াছড়িতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘মার্চ ফর আইডেন্টিটি’ কর্মসূচি পালন করে। এ কর্মসূচির পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সেটলার বাঙালিরা দীঘিনালায় পাহাড়িদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা চালায়। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ সেনাবাহিনী নির্যাতন চালিয়ে ধন রঞ্জন চাকমাকে হত্যা করে। উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে ও স্বজাতির বসতি রক্ষায় ঐদিন রাতে খাগড়াছড়ি সদরে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামলে সেনাবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরাকে হত্যা ও আরো অন্তত ২১ জনকে গুরুতর আহত করে।
পর পর দুদিনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি শহরে শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্মের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করতে গেলে সেখানেও সেটলাররা হামলা চালায়। এতে সেটলাররা নৃশংসভাবে কলেজ ছাত্র অনিক চাকমাকে হত্যা করে এবং ব্যাপক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়।
বক্তারা দুই বছরেও পৃথক পৃথকভাবে সংঘটিত এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে শহীদ জুনান, রুবেল, ধন রঞ্জন ও অনিক-এর হত্যাকারী সেনা-সেটলারদের গ্রেফাতর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।