যুবনেতা পঞ্চসেন ত্রিপুরার ১৩তম শহীদবার্ষিকীতে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় স্মরণসভা করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ), মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখা।
আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) সকাল ৯টায় শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরার স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় ডিওয়াইএফের মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি রনি ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের গুইমারা উপজেলা শাখার সভাপতি নিকেল চাকমা, ইউপিডিএফের সংগঠক সুইমং মারমা ও মনু মারমা এবং শহীদ পরিবারের সদস্য কংবালা ত্রিপুরা ও বারত মুনি ত্রিপুরাসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই সকল বীর শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ডিওয়াইএফ মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি রনি ত্রিপুরা ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নব বিকাশ।
সভায় বক্তব্য দেন ডিওয়াইএফের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য রিকেন চাকমা, ইউপিডিএফের সংগঠক সুইমং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা নিকেল চাকমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, পঞ্চসেন ত্রিপুরা ২০১২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের যুব সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৩ সালে ১৮ মে গভীর রাত ২টায় সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী সন্তু লারমার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তার নিজ বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার কন্যার বয়স ছিল মাত্র ৫ দিন। সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার পর পার্শ্ববর্তী বিজিবি’র পলাশপুর জোনে আশ্রয় নিয়েছিল। এ হত্যাকাণ্ডের আজ ১৩ বছরেও খুনিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি।
বক্তারা আরো বলেন, শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরা জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নানা কর্মসূচিতে এবং শাসকগোষ্ঠির নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি পূর্ণস্বায়ত্বশাসন আদায়ের আন্দোলনে তিনি এক নিবেদতি প্রাণ কর্মী ছিলেন। তিনি মাটিরাঙ্গা এলাকায় ভূমি বেদখলসহ অন্যায় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। যার কারণে শাসক শ্রেণির দালাল জেএসএস সন্ত্রাসী-প্রতিক্রিয়াশীল চক্রকে লেলিয়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে তাকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
তারা অভিযোগ করে বলেন, সন্তু লারমার সন্ত্রাসীরা বর্তমানে মাটিরাঙ্গার তাইন্দং, পানছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় তৎপতা চালাচ্ছে। অতীতের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ন্যায় বর্তমান বিএনপি সরকার-সেনাবাহিনীও একইভাবে তাদরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পঞ্চসেন ত্রিপরার হত্যাকারীরা এখনো প্রকাশ্যে দিবালোকে প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৩ প্রশাসন খুনিদের গ্রেফতার করেনি।
তারা বলেন, যুবনেতা পঞ্চসেন ত্রিপুরা পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়িত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মবলিদান কখনো বৃথা যাবে না। তিনি আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
স্মরণসভা থেকে বক্তারা অবিলম্বে যুবনেতা শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরার হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


