লামায় এবার ম্রোদের জমি বেদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মেরিডিয়ান কোম্পানির বিরুদ্ধে
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে এবার ম্রোদের জমি বেদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মেরিডিয়ান কোম্পানির বিরুদ্ধে। এমনিতে সেখানে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি কর্তৃক ম্রোদের বহু জমি বেদখল করা হয়েছে এবং এখনো বেদখলের পাঁয়তারা অব্যাহত রয়েছে। জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে মেরিডিয়ান কোম্পানির লোকজন গিয়ে লাংকম ম্রোর জায়গায় রাবার চারা লাগায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা গিয়ে আপাতত চারা লাগানো বন্ধ করে দেয়। এর আগে চলতি বছর এপ্রিলের শেষের দিকে লংকম ম্রোর লাগানো প্রায় এক হাজার কলাগাজ কেটে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মেরিডিয়ান কোম্পানির বিরুদ্ধে। লাংকম ম্রো লামার সরই ইউনিয়নের লাংকম পাড়ার কারবারী। তার নামেই পাড়াটি প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এই পাড়ায় ১৫টি পরিবার রয়েছে। লাংকম ম্রোর ভাষ্য হল, “২০১৩ সালে মেরিডিয়ান কোম্পানির ওয়াসিম নামে একজন ম্যানেজার তার বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সেখানে কাঁঠালের চারা লাগায়। তখন কোম্পানির ম্যানেজার বলছিল, গাছ বড় হয়ে কাঁঠাল ধরলে আমরা নেব। আবার কেটে ফেলার পর তোমার জায়গা তুমি পাবে। পরে তারা কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলে। লাংকম ম্রোর বাবাও ২০১৪ সালে মারা যান। এরপর থেকে তারা নিজেদের ভোগদখলীয় জায়গায় কলাগাছসহ বিভিন্ন ফলদ বাগান করে আসছেন। এতদিন কোন সমস্যা হয়নি। এখন মেরিডিয়ান কোম্পানি নিজেদের কেনা জমি দাবি করে শ্রমিক নিয়ে এসে সেখানে রাবার চারা লাগাতে এসেছে। লাংকম ম্রোর দেওয়া তথ্যমতে, গত বছর জুলাই মাসেও তাদের রোপন করা কলাগাছ, আনারস চারা এবং পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছে মেরিডিয়ান কোম্পানির লোকজন। সেখানে একটা খামার ঘর ছিল। সেটাও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এটা নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হলেও সমাধান হয়নি। লামা মেরিডিয়ান এগ্রো লিমিটেড ম্যানেজার আক্তার জামান দাবি করেন যে, “জায়গাটা তাদের অনেক দিন আগে কেনা জায়গা। সেখানে তাদের রাবার বাগান রয়েছে। ওই জায়গায় লাংকম ম্রো একটা ঘর তুলে রাখছে। জায়গাটা উনি জোরপূর্বকভাবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।” উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে ‘লামা রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড' নামে একটি রাবার কোম্পানি দ্বারা লাংকম ম্রো পাড়াসহ তিনটি পাড়ায় ম্রো ও ত্রিপুরাদের ভোগদখলীয় ৪০০ একর জুমভূমি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন গাছ, বাঁশ কেটে জীবিকা নির্বাহ করে আসা লাংকম ম্রো পাড়া এবং আরও দুই পাড়াবাসী তিন মাসের মত খাদ্য সংকটে পড়ে। পাড়া উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে জুমভূমি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে পাড়াবাসী। এরপর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্য রাতে রাবার কোম্পানির লেলিয়ে দেয়া দুর্বৃত্ত কর্তৃক অগ্নিসংযোগ করে ম্রো পাড়াবাসীদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও একমাত্র পানির উৎস ঝিরিতে বিষ প্রয়োগ, বৌদ্ধ বিহারে হামলা-ভাংচুর, ফসল নষ্ট করে দেওয়া, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ আরো নানা ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম-৬ আসনের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২নং সাব-কমিটির একটি প্রতিনিধি দল ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এখনও রাবার কোম্পানির করা কয়েকটি মামলার আসামী এই লাংকম ম্রো-সহ ম্রো ও ত্রিপুরা পাড়াবাসীরা। এসব মামলায় কার্বারি লাংকম ম্রো, রেংয়েন ম্রোসহ বেশ কয়েকজনকে কারাগারেও যেতে হয়েছে। এবার মেরিডিয়ান কোম্পানি রাবার চারা লাগানোর জায়গাটিও সেই ৪০০ একর জুমভূমি সীমানার পাশে। ভিকটিমও সেই লাংকম ম্রো ও তার পাড়াবাসী।
১১৪
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে এবার ম্রোদের জমি বেদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মেরিডিয়ান কোম্পানির বিরুদ্ধে। এমনিতে সেখানে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি কর্তৃক ম্রোদের বহু জমি বেদখল করা হয়েছে এবং এখনো বেদখলের পাঁয়তারা অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে মেরিডিয়ান কোম্পানির লোকজন গিয়ে লাংকম ম্রোর জায়গায় রাবার চারা লাগায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা গিয়ে আপাতত চারা লাগানো বন্ধ করে দেয়।
এর আগে চলতি বছর এপ্রিলের শেষের দিকে লংকম ম্রোর লাগানো প্রায় এক হাজার কলাগাজ কেটে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মেরিডিয়ান কোম্পানির বিরুদ্ধে।
লাংকম ম্রো লামার সরই ইউনিয়নের লাংকম পাড়ার কারবারী। তার নামেই পাড়াটি প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এই পাড়ায় ১৫টি পরিবার রয়েছে।
লাংকম ম্রোর ভাষ্য হল, “২০১৩ সালে মেরিডিয়ান কোম্পানির ওয়াসিম নামে একজন ম্যানেজার তার বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সেখানে কাঁঠালের চারা লাগায়। তখন কোম্পানির ম্যানেজার বলছিল, গাছ বড় হয়ে কাঁঠাল ধরলে আমরা নেব। আবার কেটে ফেলার পর তোমার জায়গা তুমি পাবে। পরে তারা কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলে। লাংকম ম্রোর বাবাও ২০১৪ সালে মারা যান। এরপর থেকে তারা নিজেদের ভোগদখলীয় জায়গায় কলাগাছসহ বিভিন্ন ফলদ বাগান করে আসছেন। এতদিন কোন সমস্যা হয়নি। এখন মেরিডিয়ান কোম্পানি নিজেদের কেনা জমি দাবি করে শ্রমিক নিয়ে এসে সেখানে রাবার চারা লাগাতে এসেছে।
লাংকম ম্রোর দেওয়া তথ্যমতে, গত বছর জুলাই মাসেও তাদের রোপন করা কলাগাছ, আনারস চারা এবং পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছে মেরিডিয়ান কোম্পানির লোকজন। সেখানে একটা খামার ঘর ছিল। সেটাও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এটা নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হলেও সমাধান হয়নি।
লামা মেরিডিয়ান এগ্রো লিমিটেড ম্যানেজার আক্তার জামান দাবি করেন যে, “জায়গাটা তাদের অনেক দিন আগে কেনা জায়গা। সেখানে তাদের রাবার বাগান রয়েছে। ওই জায়গায় লাংকম ম্রো একটা ঘর তুলে রাখছে। জায়গাটা উনি জোরপূর্বকভাবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে ‘লামা রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি রাবার কোম্পানি দ্বারা লাংকম ম্রো পাড়াসহ তিনটি পাড়ায় ম্রো ও ত্রিপুরাদের ভোগদখলীয় ৪০০ একর জুমভূমি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন গাছ, বাঁশ কেটে জীবিকা নির্বাহ করে আসা লাংকম ম্রো পাড়া এবং আরও দুই পাড়াবাসী তিন মাসের মত খাদ্য সংকটে পড়ে। পাড়া উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে জুমভূমি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে পাড়াবাসী।
এরপর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্য রাতে রাবার কোম্পানির লেলিয়ে দেয়া দুর্বৃত্ত কর্তৃক অগ্নিসংযোগ করে ম্রো পাড়াবাসীদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও একমাত্র পানির উৎস ঝিরিতে বিষ প্রয়োগ, বৌদ্ধ বিহারে হামলা-ভাংচুর, ফসল নষ্ট করে দেওয়া, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ আরো নানা ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম-৬ আসনের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২নং সাব-কমিটির একটি প্রতিনিধি দল ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এখনও রাবার কোম্পানির করা কয়েকটি মামলার আসামী এই লাংকম ম্রো-সহ ম্রো ও ত্রিপুরা পাড়াবাসীরা। এসব মামলায় কার্বারি লাংকম ম্রো, রেংয়েন ম্রোসহ বেশ কয়েকজনকে কারাগারেও যেতে হয়েছে।
এবার মেরিডিয়ান কোম্পানি রাবার চারা লাগানোর জায়গাটিও সেই ৪০০ একর জুমভূমি সীমানার পাশে। ভিকটিমও সেই লাংকম ম্রো ও তার পাড়াবাসী।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।