ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৮ নম্বর নন্দুয়ার ইউনিয়নের ভোলাপাড়া (পাহানপাড়া) গ্রামে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, নাচ-গান ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব ও পূজা। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে শুরু হওয়া এ উৎসবকে ঘিরে ভোলাপাড়া গ্রামে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবারের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও সবার মঙ্গল কামনায় প্রতিবছর ভাদ্র মাসের একাদশীতে মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষ ঐতিহ্যবাহী এ কারাম উৎসব পালন করে আসছেন। কারাম পূজার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো কারাম গাছের ডাল। নির্দিষ্ট নিয়ম ও ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে তা পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয়। এরপর সম্প্রদায়ের নিজস্ব পুরোহিতের নেতৃত্বে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পূজা সম্পন্ন করা হয়। উৎসবের শুরুতে নারী-পুরুষের অনেকে উপবাস পালন করেন। সন্ধ্যার পর মাদল, ঢোল, করতাল ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শুরু হয় নাচ-গান। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও প্রবীণরাও এতে অংশ নেন। কারাম পূজার সময় পুরোহিত কার্মা ও ধর্মা নামে দুই ভাইকে ঘিরে প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী কাহিনি তুলে ধরেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এ কাহিনি কারাম উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাহিনি ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে পূজার বেদিকে ঘিরে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংগীত। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের আনন্দও বাড়তে থাকে। মাদল ও ঢোলের তালে তালে ঝুমুর নাচে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পাহানপাড়া। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় মিলনমেলায়। আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সহ-সভাপতি শান্ত পাহান বলেন, বর্ষায় প্রকৃতি যখন সবুজে ভরে ওঠে এবং কৃষিকাজের ব্যস্ততা কিছুটা কমে আসে, তখন ভাদ্র মাসে কারাম উৎসবের আয়োজন করা হয়। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং মুন্ডা সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি আরও বলেন, কারাম উৎসবের মাধ্যমে পরিবারের সুখ-শান্তি ও মঙ্গল কামনার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, নাচ-গান ও সামাজিক বন্ধনকে ধরে রাখা হয়। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করাতেও এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন এলেও পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া কারাম উৎসবের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে তারা আশাবাদী। তাদের মতে, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে এসব উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা জরুরি। কারাম উৎসবকে ঘিরে ভোলাপাড়া গ্রামে তৈরি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের পরিবেশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাচ-গান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজেদের ঐতিহ্যকে উদযাপন করেন মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষ। স্থানীয়দের মতে, কারাম উৎসব তাদের কাছে শুধু একটি পূজা নয়—এটি নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম।
২৯
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৮ নম্বর নন্দুয়ার ইউনিয়নের ভোলাপাড়া (পাহানপাড়া) গ্রামে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, নাচ-গান ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব ও পূজা।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে শুরু হওয়া এ উৎসবকে ঘিরে ভোলাপাড়া গ্রামে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবারের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও সবার মঙ্গল কামনায় প্রতিবছর ভাদ্র মাসের একাদশীতে মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষ ঐতিহ্যবাহী এ কারাম উৎসব পালন করে আসছেন।
কারাম পূজার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো কারাম গাছের ডাল। নির্দিষ্ট নিয়ম ও ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে তা পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয়। এরপর সম্প্রদায়ের নিজস্ব পুরোহিতের নেতৃত্বে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পূজা সম্পন্ন করা হয়।
উৎসবের শুরুতে নারী-পুরুষের অনেকে উপবাস পালন করেন। সন্ধ্যার পর মাদল, ঢোল, করতাল ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শুরু হয় নাচ-গান। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও প্রবীণরাও এতে অংশ নেন।
কারাম পূজার সময় পুরোহিত কার্মা ও ধর্মা নামে দুই ভাইকে ঘিরে প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী কাহিনি তুলে ধরেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এ কাহিনি কারাম উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাহিনি ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে পূজার বেদিকে ঘিরে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংগীত।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের আনন্দও বাড়তে থাকে। মাদল ও ঢোলের তালে তালে ঝুমুর নাচে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পাহানপাড়া। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় মিলনমেলায়।
আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সহ-সভাপতি শান্ত পাহান বলেন, বর্ষায় প্রকৃতি যখন সবুজে ভরে ওঠে এবং কৃষিকাজের ব্যস্ততা কিছুটা কমে আসে, তখন ভাদ্র মাসে কারাম উৎসবের আয়োজন করা হয়। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং মুন্ডা সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরও বলেন, কারাম উৎসবের মাধ্যমে পরিবারের সুখ-শান্তি ও মঙ্গল কামনার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, নাচ-গান ও সামাজিক বন্ধনকে ধরে রাখা হয়। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করাতেও এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন এলেও পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া কারাম উৎসবের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে তারা আশাবাদী। তাদের মতে, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে এসব উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা জরুরি।
কারাম উৎসবকে ঘিরে ভোলাপাড়া গ্রামে তৈরি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের পরিবেশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাচ-গান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজেদের ঐতিহ্যকে উদযাপন করেন মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, কারাম উৎসব তাদের কাছে শুধু একটি পূজা নয়—এটি নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।