দীঘিনালায় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বিশেষ নারী সম্মেলন : পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মেনে নেওয়াসহ ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবনা গৃহীত
“নারীশক্তি-ই জাতীয় শক্তি, নারী সমাজকে জাগ্রত করে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বেগবান করুন” এই স্লোগানে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বিশেষ নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টায় দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া এলাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে কাল বিলম্ব না করে জনগণের একমাত্র দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মেনে নিয়ে এই দাবিতে আন্দোলনরত ইউপিডিএফ-এর সাথে আনুষ্ঠানিক সংলাপের সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা-সহ ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। সম্মেলনের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমাসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমার সঞ্চালনায় মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন পার্বত্য নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান, ইউপিডিএফ-এর সংগঠক মন্টু চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য অনুপম চাকমা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য জেসি চাকমা। সম্মেলনে হিল উইমেন্স সভাপতি সভাপতি নীতি চাকমা অতি সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বিএনপি সরকারের গঠিত তিনটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ জানিয়ে পাহাড়ে চলমান সেনা-শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের চিত্রসহ ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারী নিরাপত্তার প্রধান হুমকি সেনা ও সেটলার। রাষ্ট্রের অব্যাহত চরম অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন নিপীড়নে সবচে বেশি নিগ্রহের শিকার হয় পাহাড়ি নারী ও শিশুরা। সেনাশাসন জারি থাকার কারণে নিপীড়নের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি জাতিসত্তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দিতে এই সেনাশানসন। পাহাড়ি জনগণের অধিকার, মা-বোনের সম্ভ্রম রক্ষার্থে যারা প্রকৃতভাবে লড়াই করছে রাষ্ট্র-সরকার তাদেরকে “সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী” আখ্যা দিয়ে দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই, জাতিগত নিপীড়নের কবল থেকে সম্মান, আত্ম-মর্যাদাসহ অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নারী সমাজকে সংগঠিত হয়ে সংগ্রাম জোরদার করতে হবে। সম্মেলনে গৃহীত ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবনা: ১. পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে কাল বিলম্ব না করে জনগণের একমাত্র দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মেনে নেওয়া হোক। এ দাবিতে আন্দোলনরত ইউপিডিএফ-এর সাথে আনুষ্ঠানিক সংলাপের সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। ২.০ অনতিবিলম্বে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক সকল মিথ্যা-মামলা-হুলিয়া নিঃশর্তে প্রত্যাহার করা হোক। ২.১ জেলে অন্তরীণ ইউপিডিএফ নেতা আনন্দ প্রকাশ চাকমাসহ সকল রাজবন্দী ও বান্দরবানের বম জাতিসত্তার লোকদের নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়া হোক। ২.২ বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত সেনা মদদপুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ২.৩ নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নির্বিচারে ধরপাকড়, হয়রানি ও টহল বন্ধ করা হোক। ৩. দেশের নাগরিক হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের সংবিধান স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেওয়া হোক। ৪. নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকায় শিশু রামিসার ধর্ষক-খুনীর বিরুদ্ধে গৃহীত আইনী ব্যবস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামেও অনুসরণ করা হোক। ৫. পাহাড়ে আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা স্থাপন করতে বহুল আলোচিত কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস গংদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান করা হোক। ৬. ২০২৪ সালের ১৯-২০ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি ও ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে গুইমারায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান নিশ্চিত করা হোক। বিভিন্ন সময়ে পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হোক। ৭. বন-প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার্থে অনতিবিলম্বে পাহাড় কাটা, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ বন্ধ করে বিদেশী প্রজাতির গাছ রোপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক। সম্মেলনে উপস্থিত সংগঠনের বিভিন্ন শাখা থেকে আগত ৬০ জনের অধিক প্রতিনিধি-পর্যবেক্ষক জোর করতালি দিয়ে উক্ত প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানান এবং সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
৪৬
“নারীশক্তি-ই জাতীয় শক্তি, নারী সমাজকে জাগ্রত করে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বেগবান করুন” এই স্লোগানে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বিশেষ নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টায় দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া এলাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে কাল বিলম্ব না করে জনগণের একমাত্র দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মেনে নিয়ে এই দাবিতে আন্দোলনরত ইউপিডিএফ-এর সাথে আনুষ্ঠানিক সংলাপের সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা-সহ ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
সম্মেলনের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমাসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমার সঞ্চালনায় মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন পার্বত্য নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান, ইউপিডিএফ-এর সংগঠক মন্টু চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য অনুপম চাকমা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য জেসি চাকমা।
সম্মেলনে হিল উইমেন্স সভাপতি সভাপতি নীতি চাকমা অতি সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বিএনপি সরকারের গঠিত তিনটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ জানিয়ে পাহাড়ে চলমান সেনা-শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের চিত্রসহ ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারী নিরাপত্তার প্রধান হুমকি সেনা ও সেটলার। রাষ্ট্রের অব্যাহত চরম অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন নিপীড়নে সবচে বেশি নিগ্রহের শিকার হয় পাহাড়ি নারী ও শিশুরা। সেনাশাসন জারি থাকার কারণে নিপীড়নের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি জাতিসত্তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দিতে এই সেনাশানসন। পাহাড়ি জনগণের অধিকার, মা-বোনের সম্ভ্রম রক্ষার্থে যারা প্রকৃতভাবে লড়াই করছে রাষ্ট্র-সরকার তাদেরকে “সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী” আখ্যা দিয়ে দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই, জাতিগত নিপীড়নের কবল থেকে সম্মান, আত্ম-মর্যাদাসহ অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নারী সমাজকে সংগঠিত হয়ে সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।
সম্মেলনে গৃহীত ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবনা:
১. পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে কাল বিলম্ব না করে জনগণের একমাত্র দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মেনে নেওয়া হোক। এ দাবিতে আন্দোলনরত ইউপিডিএফ-এর সাথে আনুষ্ঠানিক সংলাপের সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
২.০ অনতিবিলম্বে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক সকল মিথ্যা-মামলা-হুলিয়া নিঃশর্তে প্রত্যাহার করা হোক।
২.১ জেলে অন্তরীণ ইউপিডিএফ নেতা আনন্দ প্রকাশ চাকমাসহ সকল রাজবন্দী ও বান্দরবানের বম জাতিসত্তার লোকদের নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়া হোক।
২.২ বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত সেনা মদদপুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
২.৩ নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নির্বিচারে ধরপাকড়, হয়রানি ও টহল বন্ধ করা হোক।
৩. দেশের নাগরিক হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের সংবিধান স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেওয়া হোক।
৪. নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকায় শিশু রামিসার ধর্ষক-খুনীর বিরুদ্ধে গৃহীত আইনী ব্যবস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামেও অনুসরণ করা হোক।
৫. পাহাড়ে আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা স্থাপন করতে বহুল আলোচিত কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস গংদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান করা হোক।
৬. ২০২৪ সালের ১৯-২০ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি ও ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে গুইমারায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান নিশ্চিত করা হোক। বিভিন্ন সময়ে পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হোক।
৭. বন-প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার্থে অনতিবিলম্বে পাহাড় কাটা, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ বন্ধ করে বিদেশী প্রজাতির গাছ রোপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক।
সম্মেলনে উপস্থিত সংগঠনের বিভিন্ন শাখা থেকে আগত ৬০ জনের অধিক প্রতিনিধি-পর্যবেক্ষক জোর করতালি দিয়ে উক্ত প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানান এবং সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।