নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক সশস্ত্র গ্রুপকে মদত ও পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিবাদে সাজেকে বিক্ষোভ
"অবৈধ সশস্ত্র গ্রুপ আমদানি করে তথাকথিত সন্ত্রাস দমন বন্ধ কর” এই শ্লোগানে ‘নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক অশান্তি সৃষ্টিকারী সশস্ত্র গ্রুপকে মদত ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের প্রতিবাদে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে’ রাঙামাটির সাজেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহষ্পতিবার (১ অক্টোব ২০২৬) সকাল ১০টার সময় সাজেকের উজোবাজারে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রথমে গঙ্গারাম লাদুমুনি বাজার নামক স্থান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করা হয়। মিছিলটি সড়ক হয়ে উজোবাজারে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সাজেক সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক জিকো চাকমার সঞ্চালনায় ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনে সভাপতি নতুন জয় চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা, একই সংগঠনের সদস্য বিজয় কান্তি চাকমা, সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সদস্য জ্যোতিলাল চাকমা ও সাজেক সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মিলন চাকমা। সমাবেশে বাবুধন চাকমা বলেন, আমরা সকলেই জানি পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জিইয়ে রয়েছে। এ সংঘাত কার দ্বারা এখনো চলমান রয়েছে এ বিষয়টি সকলের কাছে স্পষ্ট। তাই সকল দলকে যদি একইভাবে বিবেচনা করা হয় তাহলে সত্য ও আর মিথ্যার মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক দল। দীর্ঘ সময় ধরে সরকার ও প্রতিপক্ষ দলের কাছ থেকে নিপীড়ন-অত্যাচারে, খুন-গুমের শিকার হয়েও জনগণের সমর্থন নিয়ে এখনো দলটি টিকে রয়েছে। তারা জনকল্যাণমুখি নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শিশু কস্মিতা ত্রিপুরা আহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউপিডিএফর সাংগঠনিক এলাকায় প্রবেশ করে এলাকটি দখলের নেয়ার জন্য জেএসএস’র সশস্ত্র সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করার কারণে শিশুটি আহত হয়েছে। সেখানে দু’পক্ষের কোন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি বলে আমরা জানি। কস্মিতা ত্রিপুরার কী অপরাধ ছিল তাকেও গুলিবিদ্ধ হতে হবে? প্রশ্ন রাখেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আজকে জেএসএস যে শাসকগোষ্ঠী বা অন্য কোনো শক্তির সাহায্য নিয়ে ইউপিডিএফ নির্মুলের জন্য নেমেছে, যদি ধরেই নিই যে ইউপিডিএফকে নির্মূল করা গেল, তাহলে তখন কী পাহাড়িদের অধিকার আদায় হবে? তিনি বলেন, এখন সময় জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার। তিনি বলেন, ’৯৭ সালের আগে জেএসএস জাতির মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছে তা কেউ অস্বীকার করে না। কিন্তু তার পরবর্তী সময়ে তো তারা সেভাবে আন্দোলন করতে পারেনি। একমাত্র ইউপিডিএফই জনগণের সমর্থন নিয়ে জনগণের পক্ষে আন্দোলন গড়ে তুলেছে এবং এখনো আন্দোলন করে যাচ্ছে। শিক্ষা, সামাজিক অবক্ষয়, ভূমি রক্ষা, নারী নির্যাতন ইত্যাদি ব্যাপারে ইউপিডিএফ সবসময় রাজপথে সোচ্চার রয়েছে। তাই কারা জাতির পক্ষে আর কারা জাতির বিপক্ষে তা স্পষ্ট। আজকে এই উজোবাজারে বুদ্ধপুদি, লক্ষী বিজয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা সমাবেশ করতে পারছি এতে কার অবদান রয়েছে তা নিশ্চয় আমরা জানি। জাতির স্বার্থে কারা আন্দোলন করছে, জাতির মুখপাত্র হিসেবে কোন দলটি রয়েছে তা আমাদের জানা থাকতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার আগে যেমন রাজাকার, আলবদর বাহিনীর অবস্থান ছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, ঠিক তেমনি বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে, আন্দোলনে বাধাগ্রস্ত করছে, শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ আদায় করে দিতে কাজ করছে তারাও রাজাকার, আলবদর বাহিনীর ভূমিকা পালন করছে। আজকে এই সমাবেশ আয়োজনেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জাতির অধিকার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে স্পষ্টভাবে বলেন, আপনারা যদি সত্যিকার অর্থে জাতির স্বার্থে কাজ করে থাকেন তাহলে আমরা জনগণ আপনাদেরকে মাথায় তুলে রাখবো। যদি শাসকগোষ্ঠীর সাথে তাল মিলিয়ে জাতির বিরুদ্ধে কাজ করেন তাহলে আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য হবো। তিনি বলেন, ’৯৭ সালের আগে সন্তু লারমারকে পাহাড়ের মানুষ ভগবানের মতো শ্রদ্ধা- সম্মান করতো। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে আমরা মাথার উপরে জায়গা দিয়েছি। কারণ তিনি জাতীয় মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, নিজের জীবনকে বিসর্জন দিয়েছিলেন। এই মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে হত্যার দায়ও কিন্তু জেএসএস এড়াতে পারে না। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলেন। সেই দাবি থেকে জেএসএস সরে গেছে। বর্তমানে ইউপিডিএফই সেই দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। বাবুধন চাকমা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে যেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তার দায় সরকার ও সন্তু লারমাকে নিতে হবে। তিনি সকল দলকে যার যার সাংগঠনিক এলাকায় থেকে কার্যক্রম পরিচলনা করা ও ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি নিজের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হুমকি প্রদানের কথা তুলে ধরে দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আজকে এই সমাবেশে ইউপিডিএফের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, শিক্ষা অধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণে যদি কেউ আমাকে এসে হত্যা করে, জেলে দেয় তাহলেও আমি সত্য বলা থেকে বিচ্যুত হবো না’। বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, আপনারা নিশ্চয় জেনেছেন আজকের এই সমাবশটি কেন আয়োজন করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মাজলঙের নোয়াপাড়ায় এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। এর আগেও এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানি কারা, কোথায় এসে এ ঘটনাগুলো করছে। কারা একতা চায় না তা আমরা পরিষ্কারভাবে দেখছি। তিনি বলেন, এসবই সরকারের চক্রান্ত। সরকার আমাদেরকে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। যখন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হয় তখন ইউপিডিএফের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। যারা সমাজ জাতির বিরুদ্ধে অন্যায় করবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। আমাদের মা, বোন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের ওপর কেন গুলি চালানো হবে তার প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। আমরা আর এ ধরনের অন্যায় মেনে নেবো না, কোন বিবেকবান মানুষ এ ধরনের জাতি ধ্বংসের কাজ মেনে নিতে পারে না। জ্যোতি লাল চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা দীর্ঘ যুগ যুগ ধরে নিপীড়ন-নির্যাতন, গণহত্যার শিকার হয়ে আসছি। কিন্তু আমরা এখনো বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে রয়েছি। সরকার যে আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেয়ার জন্য এটা করছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকার কারণে জনগণকে নিপীড়ন-নির্যাতন, জায়গা-জমি হারা, ভিটেমাটি হারা হতে হচ্ছে। মিলন চাকমা প্রথমে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের জন্য সকল জুম্ম দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা বেঁচে থাকার স্বার্থে, অধিকারের স্বার্থে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এখানে সমবেত হয়েছি। কেউ বাধ্য হয়ে এখানে নিশ্চয় আসিনি। আজকে কস্মিতা ত্রিপুরার হাতে গুলি লেগেছে, আগামীকাল হতো তোমার, আমার ছেলে-মেয়েদের শরীরেও গুলি লাগতে পারে। এটা আমরা কীভাবে মেনে নেবো। তিনি সকল দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতির স্বার্থে আপনরা ঐক্যবদ্ধ হোন। যদি ঐক্যবদ্ধ হতে না পারেন তাহলে অন্তত মারামারি বা সংঘাত বন্ধ করুন। এটাই হচ্ছে সকল জুম্ম জনগণের মনের কথা। সংঘাত বন্ধ করলে জনগণ আপনাদের মাথায় তুলে রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আজকে যে আমি এখনে কথা বলছি হয়তো এ নিয়েও আমার বিরুদ্ধে তকমা লাগিয়ে দিতে পারে। তিনি এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বাবুধন চাকমার বিরুদ্ধে অপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, কস্মিতা ত্রিপুরার কার গুলিতে আহত হয়েছে তা সেখানকার স্থানীয় জনগণ জানেন। রাঙামাটির “দাদারা’ ব্লাঙ্ক ফায়ার করতে করতে যাওয়ার সময় কস্মিতা ত্রিপুরার হাতে গুলি লেগেছে। এটা দু’পক্ষের গোলাগুলির কোনো ঘটনা ছিল না। তিনি অপ্রচার না করে সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান। নুতন জয় চাকমা বলেন, আমাদের পাহাড়িদেরকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠীর ভাগ করে শাসন করার নীতি এখনো বহাল রয়েছে। তাই আমাদের আন্দোলন ছাড়া আর কোন পথ নেই। তিনি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।
৪৪
“অবৈধ সশস্ত্র গ্রুপ আমদানি করে তথাকথিত সন্ত্রাস দমন বন্ধ কর” এই শ্লোগানে ‘নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক অশান্তি সৃষ্টিকারী সশস্ত্র গ্রুপকে মদত ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের প্রতিবাদে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে’ রাঙামাটির সাজেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহষ্পতিবার (১ অক্টোব ২০২৬) সকাল ১০টার সময় সাজেকের উজোবাজারে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রথমে গঙ্গারাম লাদুমুনি বাজার নামক স্থান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করা হয়। মিছিলটি সড়ক হয়ে উজোবাজারে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সাজেক সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক জিকো চাকমার সঞ্চালনায় ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনে সভাপতি নতুন জয় চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা, একই সংগঠনের সদস্য বিজয় কান্তি চাকমা, সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সদস্য জ্যোতিলাল চাকমা ও সাজেক সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মিলন চাকমা।
সমাবেশে বাবুধন চাকমা বলেন, আমরা সকলেই জানি পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জিইয়ে রয়েছে। এ সংঘাত কার দ্বারা এখনো চলমান রয়েছে এ বিষয়টি সকলের কাছে স্পষ্ট। তাই সকল দলকে যদি একইভাবে বিবেচনা করা হয় তাহলে সত্য ও আর মিথ্যার মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না।
তিনি বলেন, ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক দল। দীর্ঘ সময় ধরে সরকার ও প্রতিপক্ষ দলের কাছ থেকে নিপীড়ন-অত্যাচারে, খুন-গুমের শিকার হয়েও জনগণের সমর্থন নিয়ে এখনো দলটি টিকে রয়েছে। তারা জনকল্যাণমুখি নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
শিশু কস্মিতা ত্রিপুরা আহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউপিডিএফর সাংগঠনিক এলাকায় প্রবেশ করে এলাকটি দখলের নেয়ার জন্য জেএসএস’র সশস্ত্র সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করার কারণে শিশুটি আহত হয়েছে। সেখানে দু’পক্ষের কোন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি বলে আমরা জানি। কস্মিতা ত্রিপুরার কী অপরাধ ছিল তাকেও গুলিবিদ্ধ হতে হবে? প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, আজকে জেএসএস যে শাসকগোষ্ঠী বা অন্য কোনো শক্তির সাহায্য নিয়ে ইউপিডিএফ নির্মুলের জন্য নেমেছে, যদি ধরেই নিই যে ইউপিডিএফকে নির্মূল করা গেল, তাহলে তখন কী পাহাড়িদের অধিকার আদায় হবে? তিনি বলেন, এখন সময় জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার।
তিনি বলেন, ’৯৭ সালের আগে জেএসএস জাতির মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছে তা কেউ অস্বীকার করে না। কিন্তু তার পরবর্তী সময়ে তো তারা সেভাবে আন্দোলন করতে পারেনি। একমাত্র ইউপিডিএফই জনগণের সমর্থন নিয়ে জনগণের পক্ষে আন্দোলন গড়ে তুলেছে এবং এখনো আন্দোলন করে যাচ্ছে। শিক্ষা, সামাজিক অবক্ষয়, ভূমি রক্ষা, নারী নির্যাতন ইত্যাদি ব্যাপারে ইউপিডিএফ সবসময় রাজপথে সোচ্চার রয়েছে। তাই কারা জাতির পক্ষে আর কারা জাতির বিপক্ষে তা স্পষ্ট। আজকে এই উজোবাজারে বুদ্ধপুদি, লক্ষী বিজয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা সমাবেশ করতে পারছি এতে কার অবদান রয়েছে তা নিশ্চয় আমরা জানি। জাতির স্বার্থে কারা আন্দোলন করছে, জাতির মুখপাত্র হিসেবে কোন দলটি রয়েছে তা আমাদের জানা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার আগে যেমন রাজাকার, আলবদর বাহিনীর অবস্থান ছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, ঠিক তেমনি বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে, আন্দোলনে বাধাগ্রস্ত করছে, শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ আদায় করে দিতে কাজ করছে তারাও রাজাকার, আলবদর বাহিনীর ভূমিকা পালন করছে। আজকে এই সমাবেশ আয়োজনেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি জাতির অধিকার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে স্পষ্টভাবে বলেন, আপনারা যদি সত্যিকার অর্থে জাতির স্বার্থে কাজ করে থাকেন তাহলে আমরা জনগণ আপনাদেরকে মাথায় তুলে রাখবো। যদি শাসকগোষ্ঠীর সাথে তাল মিলিয়ে জাতির বিরুদ্ধে কাজ করেন তাহলে আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য হবো।
তিনি বলেন, ’৯৭ সালের আগে সন্তু লারমারকে পাহাড়ের মানুষ ভগবানের মতো শ্রদ্ধা- সম্মান করতো। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে আমরা মাথার উপরে জায়গা দিয়েছি। কারণ তিনি জাতীয় মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, নিজের জীবনকে বিসর্জন দিয়েছিলেন। এই মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে হত্যার দায়ও কিন্তু জেএসএস এড়াতে পারে না। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলেন। সেই দাবি থেকে জেএসএস সরে গেছে। বর্তমানে ইউপিডিএফই সেই দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে।
বাবুধন চাকমা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে যেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তার দায় সরকার ও সন্তু লারমাকে নিতে হবে। তিনি সকল দলকে যার যার সাংগঠনিক এলাকায় থেকে কার্যক্রম পরিচলনা করা ও ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান।
তিনি নিজের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হুমকি প্রদানের কথা তুলে ধরে দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আজকে এই সমাবেশে ইউপিডিএফের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, শিক্ষা অধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণে যদি কেউ আমাকে এসে হত্যা করে, জেলে দেয় তাহলেও আমি সত্য বলা থেকে বিচ্যুত হবো না’।
বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, আপনারা নিশ্চয় জেনেছেন আজকের এই সমাবশটি কেন আয়োজন করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মাজলঙের নোয়াপাড়ায় এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। এর আগেও এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানি কারা, কোথায় এসে এ ঘটনাগুলো করছে। কারা একতা চায় না তা আমরা পরিষ্কারভাবে দেখছি।
তিনি বলেন, এসবই সরকারের চক্রান্ত। সরকার আমাদেরকে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। যখন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হয় তখন ইউপিডিএফের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। যারা সমাজ জাতির বিরুদ্ধে অন্যায় করবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। আমাদের মা, বোন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের ওপর কেন গুলি চালানো হবে তার প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। আমরা আর এ ধরনের অন্যায় মেনে নেবো না, কোন বিবেকবান মানুষ এ ধরনের জাতি ধ্বংসের কাজ মেনে নিতে পারে না।
জ্যোতি লাল চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা দীর্ঘ যুগ যুগ ধরে নিপীড়ন-নির্যাতন, গণহত্যার শিকার হয়ে আসছি। কিন্তু আমরা এখনো বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে রয়েছি। সরকার যে আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেয়ার জন্য এটা করছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকার কারণে জনগণকে নিপীড়ন-নির্যাতন, জায়গা-জমি হারা, ভিটেমাটি হারা হতে হচ্ছে।
মিলন চাকমা প্রথমে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের জন্য সকল জুম্ম দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা বেঁচে থাকার স্বার্থে, অধিকারের স্বার্থে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এখানে সমবেত হয়েছি। কেউ বাধ্য হয়ে এখানে নিশ্চয় আসিনি। আজকে কস্মিতা ত্রিপুরার হাতে গুলি লেগেছে, আগামীকাল হতো তোমার, আমার ছেলে-মেয়েদের শরীরেও গুলি লাগতে পারে। এটা আমরা কীভাবে মেনে নেবো।
তিনি সকল দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতির স্বার্থে আপনরা ঐক্যবদ্ধ হোন। যদি ঐক্যবদ্ধ হতে না পারেন তাহলে অন্তত মারামারি বা সংঘাত বন্ধ করুন। এটাই হচ্ছে সকল জুম্ম জনগণের মনের কথা। সংঘাত বন্ধ করলে জনগণ আপনাদের মাথায় তুলে রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আজকে যে আমি এখনে কথা বলছি হয়তো এ নিয়েও আমার বিরুদ্ধে তকমা লাগিয়ে দিতে পারে। তিনি এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বাবুধন চাকমার বিরুদ্ধে অপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, কস্মিতা ত্রিপুরার কার গুলিতে আহত হয়েছে তা সেখানকার স্থানীয় জনগণ জানেন। রাঙামাটির “দাদারা’ ব্লাঙ্ক ফায়ার করতে করতে যাওয়ার সময় কস্মিতা ত্রিপুরার হাতে গুলি লেগেছে। এটা দু’পক্ষের গোলাগুলির কোনো ঘটনা ছিল না। তিনি অপ্রচার না করে সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
নুতন জয় চাকমা বলেন, আমাদের পাহাড়িদেরকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠীর ভাগ করে শাসন করার নীতি এখনো বহাল রয়েছে। তাই আমাদের আন্দোলন ছাড়া আর কোন পথ নেই। তিনি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।