ঢাকাশুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র সংগ্রাম প্রসঙ্গ: রবি ত্রিপুরার সমালোচনার জবাবে

অনলাইন ডেস্ক
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

১৯৫
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র সংগ্রাম প্রসঙ্গ: রবি ত্রিপুরার সমালোচনার জবাবে

‎মিল্টন চাকমা, সংগঠক, দীঘিনালা ইউনিট, ইউপিডিএফ

‎কিছুটা বিলম্বে খেয়াল করলাম, আমার লেখা একটি প্রবন্ধের ওপর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নিউজ পোর্টালে (hillvoice.net) রবি ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তি একটি প্রতিক্রিয়া লিখেছেন। তিনি তার লেখার শিরোনাম দিয়েছেন “ইউপিডিএফ নেতা মিল্টন চাকমার ‘কেমন ছিল শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র সংগ্রাম’ প্রসঙ্গে”।

‎বরাবরের মতোই জেএসএসের পরিচিত ভঙ্গিতে তিনি শুরুতেই আমার প্রবন্ধকে মনগড়া, মিথ্যা এবং রাজনৈতিক ফায়দা লাভের চেষ্টা বলে খারিজ করে দেয়ার প্রয়াস চালিয়েছেন। এরপর তিনি তার ভাষায় “মিল্টন বাবু তথা প্রসিত গংদের দায়িত্বশীল কীর্তির উপর সওয়াল” তুলেছেন।

‎যেহেতু ‘রবি ত্রিপুরা’ নামে জেএসএসের কোনো নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তির অস্তিত্ব আমি খুঁজে পাইনি, তাই এটা ধারণা করা যুক্তিসঙ্গত যে, তিনি ছদ্মনামে জেএসএসের কোনো একজন নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হবেন।

‎বলে রাখা ভাল, ছদ্মনামে লেখা কোনো অপরাধ নয়। ইতিহাসে অনেক নামকরা কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক ছদ্মনামে লিখেছেন। কিন্তু ছদ্মনামের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হলে সেটা গর্হিত ও অনৈতিক কাজ হয়ে যায় এবং তা কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না।

‎প্রকৃত পরিচয়ে লেখা হলে লেখার পেছনে একটি দায়িত্ববোধ থাকে। কিন্তু ছদ্মনামে হলে অনেক কিছুই লেখা যায়। প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকারী লেখকও (রবি ত্রিপুরা) হয়তো সেই সুযোগটা নিতে চেয়েছেন। তবে সেটা করতে গিয়ে তিনি একটা পেয়ে আর একটা হারিয়েছেন। তিনি তার ইচ্ছামাফিক যা-তা ”ইতিহাস” লেখার সুযোগ পেয়েছেন বটে, কিন্তু হারিয়েছেন তার বিশ্বাসযোগ্যতা। ঘটে যাওয়া ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনা নিয়ে ছদ্মনামে লেখা হলে তা মানুষকে শুধু বিভ্রান্তই করতে পারে, কোনো সঠিক পথ দেখাতে পারে না।

‎আমার লেখাটি ছিল মাত্র সাড়ে সাতশ শব্দের মধ্যে। আর তার জবাবে রবি ত্রিপুরা নামের ছদ্মবেশী লেখক একুশ শ’র বেশি শব্দের গাঁথুনি দিলেন। আমার লেখাটির প্রায় তিন গুণ বেশি বড় হলেও তিনি মূল প্রসঙ্গ থেকে চ্যুত হয়ে অনেক অপ্রসাঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করেছেন। যেমন কোথায় শান্তিবাহিনীর সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা, আর তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে টেনে আনছেন পিসিপির খাগড়াছড়ি জেলা সম্মেলনকে। এছাড়া লেখার বাকি অংশও অনেক মিথ্যা ও মনগড়া তথ্যে ভরপুর। প্রকৃত সত্য তুলে ধরার স্বার্থে এর কিছু জবাব দেয়া একান্ত জরুরী।

‎১) একশ’ জনের কর্মী বাহিনীর তালিকা প্রেরণ: জঘন্য মিথ্যাচার:

‎রবি ত্রিপুরা বুঝি জেএসএস ও প্রসিত দার হাঁড়ির সব খবর জানেন। অথচ জেএসএসে এই নামে কোন নেতার সন্ধান আমরা জানি না; প্রসিত দা এবং আমরা কেউ তাকে চিনি না। যাই হোক, তিনি বলেছেন:

‎”তৎকালীন সময়ে পার্টির নেতৃত্ব শক্তিশালী ও সশস্ত্র আন্দোলন জোরদারকরণে জেএসএস’এর নেতৃত্ব ১৯৯৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও পাহাড়ী গণপরিষদ (পিজিপি) থেকে সদস্য রিক্রুট করার জন্য একটি আহবান জানান। পিসিপি ও পিজিপির নেতৃত্ব এবং পিসিপির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যকে না জানিয়ে বা আলোচনা না করে প্রসিত বিকাশ খীসা ও সঞ্চয় চাকমা মিলে ১০০ জনের কর্মী বাহিনীর নামের তালিকা পার্টির নিকট প্রেরণ করে। নেতৃদ্বয়ের কাছ থেকে তালিকা পেয়ে পার্টির নেতৃত্ব পিসিপি ও পিজিপির কর্মীদের গুরুত্ব দিয়ে আলাদা ঘরবাড়ি প্রস্তুত করে রাখে। পিসিপি ও পিজিপির কর্মী বাহিনীর জন্য পার্টির নেতৃত্ব অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার করে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কালায়ন চাকমা ও বর্তমানে র‌্যারে চাকরিরত প্রিয়দর্শী চাকমাসহ ১০-১৫ জনের একটি টিম নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়।”

‎রবি বাবু এই তথ্যটি কোথায় পেয়েছেন তার কোন রেফারেন্স দিতে পারেননি। দিতে পারার কথাও নয়। কারণ কোন জেএসএস নেতা আজ পর্যন্ত এই কথা বলেননি। আমিও কোনদিন শুনিনি, আমার সহযোদ্ধারাও এই আজগুবি কথা শুনেছেন বলে আমাকে জানায়নি। সন্তু লারমা ও উষাতন তালুকদার হরহামেশা প্রসিতদাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন এবং অনেকে উল্টা-পাল্টা বক্তব্য দেন। কিন্তু কই তাদের মুখ থেকেও তো এমনতর অভিযোগ কোনদিন শোনা যায়নি! তাহলে জেএসএস-এর যে অভ্যন্তরীণ গোপনীয় বিষয় খোদ জেএসএস নেতারা জানেন না, সেই বিষয় রবিবাবু জানেন কী করে? এটেই কি প্রমাণ হয় না যে তার দেয়া উপরোক্ত তথ্য সম্পূর্ণ ভূয়া ও কল্পনিক?

‎আমি ক্রসচেক দেয়ার জন্য ও একইসাথে এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কৌতুহল মেটানোর জন্য প্রসিতদার শরণাপন্ন হলাম এবং এ বিষয়ে তার কাছ থেকে জানতে চাইলাম। তার ভাষ্য মতে, ১০০ জনের কর্মীবাহিনীর তালিকা পাঠানোর তথ্য একটি কিচ্ছা ছাড়া কিছুই নয়। যেখানে তারা নিজেরাই জেএসএস-শান্তিবাহিনীতে ভর্তি হতে সচিব চাকমা ও অভিলাষ চাকমাসহ অন্যান্যদের নিরুৎসাহিত করছিলেন, সেখানে ভর্তির জন্য ১০০ জনের লিস্ট পাঠাতে যাবেন কেন? তাছাড়া সে সময় সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির সংলাপ চলছিল এবং সবাই বৈঠকের ফলাফল কী হয় তার জন্য অপেক্ষা করছিল। পিসিপি-পিজিপি-এইচডব্লিউএফের নেতৃত্বে গণআন্দোলনও ছিল তুঙ্গে। প্রসিত দা তার সহযোদ্ধাদের অর্থাৎ আমাদের সাথে আলোচনা না করে কোনদিন কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি যদি ১০০ জনের লিস্ট পাঠাতেন, তাহলে তিনি আমাদের কারো না কারও সাথে অবশ্যই আলোচনা করতেন। কাজেই রবি ত্রিপুরার ১০০ জনের লিস্টের তথ্য বোমা ফিউজড!

‎প্রসিতদা বরং আমাদের অনেক আগে বলেছিলেন, ১৯৯৫ সালে যখন শেষ বার সন্তু বাবুর সাথে তার দেখা হয়েছিল, তখন সন্তু বাবু তাকে জেএসএসে যোগ দিতে অনুরোধ করেছিলেন। প্রসিতদা যোগ দেয়ার আগে জেএসএসের গঠনতন্ত্র পড়তে চেয়েছিলেন। সন্তু বাবু বলেছিলেন তিনি সেটা পড়তে দেবেন এবং এক কপি পাঠ

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।