ঢাকাশনিবার , ১ আগস্ট ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকায় “স্বাধীন রাজ্যকে জেলায় রূপান্তরের পরিণতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অস্তিত্ব লড়াই” শীর্ষক আলোচনা সভা

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ১, ২০২৬ ৬:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২৮

“স্বাধীন রাজ্যকে জেলায় (১৮৬০-১৯৪৭) রূপান্তরের পরিনতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অস্তিত্ব লড়াই” শীর্ষক এক আলোচনা সভা করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) ঢাকা মহানগর শাখা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) বিকাল সাড়ে ৩টায ঢাকার শাহবাগ এলাকায় একটি  হলরুমে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় পিসিপি’র ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর ত্রিপুরার সভাপতিত্ব ও একই শাখার দপ্তর সম্পাদক অংসালা মারমার সঞ্চালনায় আলোচনা করেন পিসিপির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অমল ত্রিপুরা ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক রোনাল চাকমা।

সভায় অমল ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে একসময় প্রচুর পরিমাণে তুলা উৎপাদন হতো। তবে তারা তেল, লবণ শুঁটকিসহ আরো অনেক দ্রব্য উৎপাদন করতে পারতো না। এজন্য তৎকালীন রাজারা মুঘলদের সাথে তুলার বিনিময়ে একটি চুক্তি করে। মুঘলরা বারবার পার্বত্য চট্টগ্রাম দখলের চেষ্টা করলে তাদের সাথে আমাদের রাজাদের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে মুঘলদের পরাজিত করে দুটি কামান জব্দ করে, যা আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে বীরত্বের গাঁথা হয়ে রয়েছে। পরবর্তীতে ইংরেজরা আসার পরও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ অন্যায় মেনে নেয়নি। তারা তৎকালীন রাজাদের নেতৃত্বে প্রতিরোধ সংগ্রাম করেছে। ইংরেজদের আক্রমণের কাছে তারা মাথা নত করেনি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একসময় একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। এ অঞ্চলের জনগণ কখনোই ব্রিটিশদের প্রজা ছিলেন না, তারা ছিলেন শুধু করদাতা। ব্রিটিশ শাসকরা তা নির্ধিদ্বায় স্বীকার করেছেন। পর্তুগিজরা তাদের দলিলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘চাকোমাস’ এবং মোগলরা তাদের রাজস্ব দলিলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘কার্পাস মহল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম কোন সময় বৈদেশিক শাসকদের দ্বারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ও শাসনে ছিল না তা বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি।

আমল ত্রিপুরা বলেন, ১৮৬০ সালের ১ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা স্বাধীন রাজ্যকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’ নাম দিয়ে সাধারণ একটি জেলায় রূপান্তরের মাধ্যমে পাহাড়িদের যে নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা, স্বাতন্ত্র্যতা ছিল সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলার সাথে জড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্ত করে দিয়ে যান। যার ফলে পাহাড়িরা নিজেদের শাসন ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে শাসন-শোষণের যাঁতাকলে পড়ে যায়, সেই দমন-পীড়ন আজ পর্যন্ত চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আমাদের যে বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে ছাত্র সমাজ, নতুন প্রজন্ম ও জনগণকে তা জানতে হবে। ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে আমাদের লড়াইয়ের স্প‌ৃহা জাগিয়ে তুলতে হবে।

রোনাল চাকমা বলেন, এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। এই রাজ্যের নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে ছিল না। এই রাজ্যে আমাদের নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা ছিল এবং রাজারা স্বাধীনভাবে শাসন করতো‌। ভারত উপমহাদেশে প্রথমে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে মুঘলরা আসলেও পরবর্তীতে তারা ভারত উপমহাদেশে বিভিন্ন জায়গায় ধীরে ধীরে শাসন ব্যবস্থায় আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে।  পরবর্তীতে ব্রিটিশরাও একই উদ্দেশ্যে ভারত উপমহাদেশে আসে। ভারত উপমহাদেশে এসে প্রথমে তারা মুঘলদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এরপর বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে তার বিশ্বস্ত সেনাপতি মীরজাফর এর সাথে আঁতাত করে পরাজিত করার মাধ্যমে ভারতসহ বাংলার শাসন ব্যবস্থা দখল করে। কিন্তু তখনও পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ইংরেজরা বাংলা দখল করার পরই কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে নজর দেয় এবং তারা ধীরে ধীরে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজাদের নানাভাবে বশে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজারা তখনকার সময়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কখনোই বাংলার অংশ ছিল না। ইংরেজরা বাংলা দখল করার পর পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি জেলায় রূপান্তর করে এবং এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের যে স্বাধীন রাজ্য ছিল তা চট্টগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়। এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের যে শাসনব্যবস্থা তা সংকুচিত হয়।

রোনাল চাকমা বলেন, ব্রিটিশরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে জেলায় রূপান্তরের মাধ্যমে পাহাড়িদের যে নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা ছিল তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। ফলে পাহাড়িরা ভারত উপমহাদেশ এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান ও বর্তমানে বাংলাদেশের একটি অংশ হিসেবে শাসিত হয়ে আসছে। ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন দেশ গঠন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ ধর্মের ভিত্তিতে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হ‌ওয়ার কথা থাকলেও আমাদেরকে অন্যায়ভাবে পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উক্ত সভায় সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য রূপসী চাকমা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।