স্বাধীন পার্বত্য রাজ্যকে ‘জেলায়’ রূপান্তর: আজকের অনলাইন আলোচনায় মূল আলোচক ড.গৌতম চাকমা
১৮৬০ সালের ১ আগস্ট স্বাধীন পার্বত্য রাজ্যকে সাধারণ জেলায় রূপান্তরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম বিষয়ে অনলাইন আলোচনায় মূল আলোচক হিসেবে থাকবেন ড গৌতম চাকমা। এছাড়া আলোচনায় আরো থাকবেন- অরুণাচল প্রদেশের চাকমা ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সভাপতি রূপসিং চাকমা, ইউপিডিএফ সংগঠক মাইকেল চাকমা প্রমুখ। আলোচনাটি আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনাটি যে ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে তার লিঙ্ক: https://www.facebook.com/profile.php?id=61555129626975 🔹ড. গৌতম চাকমার পরিচয়: ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. গৌতম চাকমার সবচেয়ে বড় পরিচয়গুলোর একটি হলো, তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত স্নেহ কুমার চাকমার কনিষ্ঠ সন্তান। তৎকালীন সামন্তীয় সমাজব্যবস্থায় একজন সাধারণ চাকমা পরিবারের সন্তানের পক্ষে রাজনৈতিক নেতৃত্বের শীর্ষে উঠে আসা মোটেও সহজ ছিল না। তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসমিতি’ প্রতিষ্ঠা ও এর নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে স্নেহ কুমার চাকমা সেই কঠিন পথটিই দেখিয়েছিলেন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই জনসমিতির গণভিত্তি ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশে গড়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। মূল জনসমিতি নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া এবং স্নেহ কুমার চাকমা ভারতে চলে যেতে বাধ্য হওয়ায় সংগঠনটির কার্যক্রম থমকে গিয়েছিল। পরবর্তীতে জেএসএস নেতারা ভেবেছিলেন, পুরোনো সেই পরিচিত নামের সঙ্গে মিল রেখে নতুন সংগঠন তৈরি করলে তা সহজেই মানুষের আস্থা অর্জন করবে। ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর স্নেহ কুমার চাকমা ‘হিউম্যানিটি প্রোটেকশন ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যা পার্বত্য অঞ্চলের মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন সোচ্চার ছিল। জেএসএসের অভ্যন্তরীণ লাম্বাবাধি গৃহযুদ্ধের সময় তিনি লাম্বা গ্রুপের পক্ষে অবস্থান নেন এবং সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত লাম্বা গ্রুপই জয়ী হয়। বাবার সেই মানবিক ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমানে হিউম্যানিটি প্রোটেকশন ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ড. গৌতম চাকমা। ১৯৮৬ সালের গণহত্যার পর যখন পাহাড়ি মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন, তখন শুরুতেই তাঁদের শরণার্থী স্বীকৃতি দিতে চায়নি ভারত সরকার। চরম অনাহার ও মানবিক সংকটে দিন কাটানো সেই মানুষদের পাশে দাঁড়াতে প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন ড. গৌতম চাকমারা। ইতিহাস বলে, পার্বত্য শান্তিচুক্তির আগের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জেএসএসের পক্ষে লবিংয়ের মূল দায়িত্ব পালন করত এই হিউম্যানিটি প্রোটেকশন ফোরাম। রামেন্দু শেখর দেওয়ান ও ড. গৌতম চাকমা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি হিসেবে দিনরাত কাজ করলেও, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত মুহূর্তে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। আজ ১লা আগস্ট, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের কাছে যা এক বিষাদময় ঔপনিবেশিক স্মৃতির দিন। ১৮৬০ সালের এই দিনটিতেই পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে একে ব্রিটিশ ভারতের সাধারণ একটি জেলায় রূপান্তর করা হয়, যার মধ্য দিয়ে অঞ্চলে শুরু হয় ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ শাসন। এই ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনা সভায় আজ মূল বক্তা হিসেবে থাকবেন ড. গৌতম চাকমা। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে যাঁরা চিন্তা করেন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় চোখ রাখতে পারেন।
৪২
১৮৬০ সালের ১ আগস্ট স্বাধীন পার্বত্য রাজ্যকে সাধারণ জেলায় রূপান্তরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম বিষয়ে অনলাইন আলোচনায় মূল আলোচক হিসেবে থাকবেন ড গৌতম চাকমা।
এছাড়া আলোচনায় আরো থাকবেন- অরুণাচল প্রদেশের চাকমা ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সভাপতি রূপসিং চাকমা, ইউপিডিএফ সংগঠক মাইকেল চাকমা প্রমুখ।
আলোচনাটি আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনাটি যে ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে তার লিঙ্ক: https://www.facebook.com/profile.php?id=61555129626975
🔹ড. গৌতম চাকমার পরিচয়:
ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. গৌতম চাকমার সবচেয়ে বড় পরিচয়গুলোর একটি হলো, তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত স্নেহ কুমার চাকমার কনিষ্ঠ সন্তান। তৎকালীন সামন্তীয় সমাজব্যবস্থায় একজন সাধারণ চাকমা পরিবারের সন্তানের পক্ষে রাজনৈতিক নেতৃত্বের শীর্ষে উঠে আসা মোটেও সহজ ছিল না। তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসমিতি’ প্রতিষ্ঠা ও এর নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে স্নেহ কুমার চাকমা সেই কঠিন পথটিই দেখিয়েছিলেন।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই জনসমিতির গণভিত্তি ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশে গড়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। মূল জনসমিতি নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া এবং স্নেহ কুমার চাকমা ভারতে চলে যেতে বাধ্য হওয়ায় সংগঠনটির কার্যক্রম থমকে গিয়েছিল। পরবর্তীতে জেএসএস নেতারা ভেবেছিলেন, পুরোনো সেই পরিচিত নামের সঙ্গে মিল রেখে নতুন সংগঠন তৈরি করলে তা সহজেই মানুষের আস্থা অর্জন করবে। ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর স্নেহ কুমার চাকমা ‘হিউম্যানিটি প্রোটেকশন ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যা পার্বত্য অঞ্চলের মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন সোচ্চার ছিল। জেএসএসের অভ্যন্তরীণ লাম্বাবাধি গৃহযুদ্ধের সময় তিনি লাম্বা গ্রুপের পক্ষে অবস্থান নেন এবং সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত লাম্বা গ্রুপই জয়ী হয়।
বাবার সেই মানবিক ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমানে হিউম্যানিটি প্রোটেকশন ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ড. গৌতম চাকমা। ১৯৮৬ সালের গণহত্যার পর যখন পাহাড়ি মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন, তখন শুরুতেই তাঁদের শরণার্থী স্বীকৃতি দিতে চায়নি ভারত সরকার। চরম অনাহার ও মানবিক সংকটে দিন কাটানো সেই মানুষদের পাশে দাঁড়াতে প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন ড. গৌতম চাকমারা। ইতিহাস বলে, পার্বত্য শান্তিচুক্তির আগের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জেএসএসের পক্ষে লবিংয়ের মূল দায়িত্ব পালন করত এই হিউম্যানিটি প্রোটেকশন ফোরাম। রামেন্দু শেখর দেওয়ান ও ড. গৌতম চাকমা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি হিসেবে দিনরাত কাজ করলেও, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত মুহূর্তে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি।
আজ ১লা আগস্ট, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের কাছে যা এক বিষাদময় ঔপনিবেশিক স্মৃতির দিন। ১৮৬০ সালের এই দিনটিতেই পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে একে ব্রিটিশ ভারতের সাধারণ একটি জেলায় রূপান্তর করা হয়, যার মধ্য দিয়ে অঞ্চলে শুরু হয় ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ শাসন। এই ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনা সভায় আজ মূল বক্তা হিসেবে থাকবেন ড. গৌতম চাকমা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে যাঁরা চিন্তা করেন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় চোখ রাখতে পারেন।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।