ঢাকাবুধবার , ৭ অক্টোবর ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজখালী-চৌচালা এলাকায় সন্তু গ্রুপের ফেলে যাওয়া দুটি আস্তানা ধ্বংস করল এলাকাবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট
অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

৩৯

রাঙামাটির ঘাগড়া ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া সীমান্তে রাজখালী ও চৌচালা এলাকায় জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের ফেলে যাওয়া দুটি আস্তানা ধ্বংস করে দিয়েছে এলাকাবাসী।  কিছুদিন আগে এক আক্রমণের শিকার হয়ে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এতদিন ভয়ে এলাকার লোকজন সেখানে প্রবেশ করার সাহস পায়নি।

গতকাল মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজখালী ও চৌচালা এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থান করা জায়গাগুলোতে প্রবেশ করে। সেখানে সন্তু গ্রুপের লোকজনের আর কোন উপস্থিতি না থাকায় এলাকার লোকজন জায়গা দু’টিতে তল্লাশি চালায়। এ সময় রাজখালীতে তাদের ব্যবহার করা ৪টি বাঙ্কার ও চৌচালায় ৬টি বাঙ্কার এবং উভয় স্থানে পলিথিনের তৈরি ১২টি ঘর খুঁজে পায় এলাকাবাসী।

এছাড়া এলাকার লোকজন তাদের ফেলে যাওয়া দুটি আস্তানা থেকে ৫টি কম্বল, ২টি বোরগি (সুতায় বোনা কাপড়), ২৫ কেজি চাল, ৪টি হাফপ্যান্ট, ২টি শার্ট ও বেশকিছু রেক্সিন উদ্ধার করেছে। তল্লাশি শেষে তারা আস্তানাগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে চৌচালার এক গ্রামবাসী এ প্রতিবেদককে জানান, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন তাঁর বাঁশ বাগান ও বাচ্ছুরি (বাঁশ কোড়ল) ধ্বংস করে দিয়েছে। বাগান থেকে ইচ্ছামত বাঁশ কেটে ঘর নির্মাণ করেছে। বাগানের বাচ্ছুরি ভেঙ্গে রান্না করে খেয়েছে। এতে তার বাঁশ বাগানটির অনেক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া তারা কোন খাদ্য-সামগ্রী বা জিনিসপত্র কিনে নিলেও উচিত দাম দিতো না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এলাকায় আরো অনেকে বলেছেন, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থান না থাকায় বর্তমানে এলাকার জনগণ স্বস্তিতে রয়েছেন। তারা সেখানে অবস্থানকালে ইচ্ছেমত জিনিসপত্র নিয়ে গেলেও ভয়ে কেউ কিছুই বলতে পারতো না। কেউ কোনো কিছু বললেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ৈ হুমকি-ধমকি দিতো বলে তারা জানান।

স্থানীয়রা আরও জানান, গতবার আক্রান্ত হওয়ার এক সপ্তাহ পর তারা ঐ আস্তানাগুলো ত্যাগ করে চলে গেছে। ঘটনার দিন পার্শ্ববর্তী লোকজনকে বাড়ি থেকে কাউকে বের হতে দেয়নি। সে কারণে ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে তারা জানতে পারেননি। সেদিন ঘটনার পর তারা একটি বাড়ি থেকে ২টি কম্বল, ১টি বোরগি (সুতায় বোনা কাপড়) নিয়ে গেছে, সেগুলো আর ফেরত দেয়নি। ফলে সেদিন তারা (সন্তু গ্রুপ) বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে ধারণা স্থানীয়দের।

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার লোকজন বলেছেন, ঘটনার দিন সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের খুবই আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। তারা ভয়ে গ্রামবাসীদের বাড়ির ভিতরে ঢুকে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী জানান, “যেদিন ঘটনাটি ঘটে সেদিন তারা (সন্তু গ্রুপের সদস্যরা) আমার বাড়ির ভিতর ঢুকে খাটের নীচে লুকিয়ে পড়ে। তাদের এমন অবস্থা দেখে আমি তাদেরকে বলি, ‘আপনারা এভাবে আমার বাড়ির ভিতর থাকলেতো আমারই বিপদ হবে’। এ সময় তারা ভয়ে কান্নার সুরে আমাকে বলেন, ‘দা করার কিছুই নাই, আমাদের খুব ভয় লাগছে’।”

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাইয়ের ওই আক্রমণে সন্তু গ্রুপের ৬ জন নিহত ও আরও ১১ জনের মতো আহত হয়েছিল। এর সপ্তাহখানিক পর তারা ওই দুটি আস্তানা ছেড়ে ঘাগড়ার আমছড়ি এলাকায় চলে যায়।

সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি না থাকায় বর্তমানে এলাকার লোকজন অনেকটা স্বস্তির মধ্যে বসবাস করতে পারছেন- এমনতাই জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।