জাতীয় নির্বাচন ও জেএসএস–সন্তু লারমা দলের দ্বিচারিতামূলক রাজনৈতিক অবস্থান
জাতীয় নির্বাচন ও জেএসএস–সন্তু লারমা দলের দ্বিচারিতামূলক রাজনৈতিক অবস্থান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে জেএসএস–সন্তু লারমা দলের ভূমিকা ও অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকাশ্য বক্তব্য, স্লোগান ও গোপন রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈপরীত্য তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চরিত্রকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে জেএসএস–সন্তু লারমা দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে “ওয়াদুদ ঠেকাও, পাহাড় বাঁচাও” স্লোগান দিচ্ছেন, অন্যদিকে দলীয়ভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে তারা এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না এবং বিএনপিকে সমর্থন করবে। এই অবস্থান নিজেই একটি মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে— খাগড়াছড়ির নির্বাচনী বাস্তবতায় বিএনপিকে সমর্থন করা কি কার্যত ওয়াদুদ ভূইয়াকে সমর্থন করারই নামান্তর নয়? যদিও জেএসএস–সন্তু লারমা দল সরাসরি ওয়াদুদ ভূইয়ার পক্ষে সমর্থনের কথা অস্বীকার করছে, তথাপি পরোক্ষভাবে বিএনপির পাহাড়ি প্রার্থী সমীরণ দেওয়ানের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে তারা দ্ব্যর্থক রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। বাস্তবতা হলো, খাগড়াছড়ি জেলায় জেএসএস–সন্তু লারমা দলের কোনো কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো বা জনভিত্তি নেই। ফলে এই জেলায় তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা মূলত প্রতীকী ও কৌশলগত বলেই প্রতীয়মান হয়। রাজনৈতিকভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, জেএসএস–সন্তু লারমা দলের সংগঠিত কার্যক্রম মূলত রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ। ঐ দুই জেলায় বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে তারা নীরব থাকলেও খাগড়াছড়িতে এসে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করছে। এটি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করার একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবেই বিবেচিত হয়। রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে হত্যার হুমকি এবং দীপেন দেওয়ানের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিপুল অর্থের বিষয়টি ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর লক্ষ্যে খাগড়াছড়িকে একটি ‘রাজনৈতিক পরীক্ষাক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে জেএসএস–সন্তু লারমা দলের বর্তমান তৎপরতা ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’-এর রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, জেএসএস–সন্তু লারমা দলের রাজনীতিতে দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়। প্রকাশ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলেও বাস্তবে ভিন্ন লক্ষ্য সাধনের নজির তাদের রাজনীতিতে বহুবার দেখা গেছে। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে কার্যত একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা এবং পরবর্তীতে সেই দায় অন্য রাজনৈতিক শক্তির ওপর চাপানোর ঘটনা তার একটি বড় উদাহরণ। সেই সময় জেএসএস–সন্তু লারমা দলের পক্ষ থেকে সংঘটিত নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— জেএসএস–সন্তু লারমা দলের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ একটি রাষ্ট্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেখানে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচন ছাড়াই সন্তু লারমার চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্বে থাকা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বাস্তবতা জেএসএস–সন্তু লারমা দলকে কার্যত একটি রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে। ফলে দলটির বিপ্লবী বা বিরোধী পরিচয়ের দাবির সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক আচরণের সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, জেএসএস–সন্তু লারমা দলের মূল কৌশল হলো— প্রকাশ্যে বিরোধিতার ভাষা ব্যবহার করে বাস্তবে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা। যে রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় বা ক্ষমতার নিকটবর্তী অবস্থানে থাকে, তাদের সঙ্গেই অবস্থান নেওয়াই দলটির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রবণতা। সন্তু লারমা ধরে নিয়েছেন যে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে; সে কারণেই তিনি লাগামহীনভাবে বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছেন। একইভাবে, যদি ঘটনাক্রমে জামায়াত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, তবে তাকেও সমর্থন দেওয়া হবে— এমন রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিতও পরিলক্ষিত হয়। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে সর্বমিত্র চাকমার ছাত্রশিবিরে অবস্থান পাকাপোক্ত রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে জেএসএস–সন্তু লারমা দলের “ওয়াদুদ ঠেকাও” স্লোগান যতটা উচ্চকিত, বাস্তব রাজনৈতিক ফলাফল তার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে প্রবাহিত হচ্ছে— এমন ধারণাই আরও শক্তিশালী হয়। ফলে সাধারণ জনগণের জন্য আবেগী স্লোগান ও বাস্তব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের পার্থক্য অনুধাবন করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সর্বোপরি বলা যায়, জেএসএস–সন্তু লারমা দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একটি পরিচিত ধাঁচের পুনরাবৃত্তি— যেখানে দ্ব্যর্থক বক্তব্য, কৌশলগত নীরবতা এবং পরোক্ষ সমর্থনের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। এই বাস্তবতা অনুধাবন করাই সচেতন রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মূল ভিত্তি।
২১৮
জাতীয় নির্বাচন ও জেএসএস–সন্তু লারমা দলের দ্বিচারিতামূলক রাজনৈতিক অবস্থান
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে জেএসএস–সন্তু লারমা দলের ভূমিকা ও অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকাশ্য বক্তব্য, স্লোগান ও গোপন রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈপরীত্য তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চরিত্রকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
একদিকে জেএসএস–সন্তু লারমা দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে “ওয়াদুদ ঠেকাও, পাহাড় বাঁচাও” স্লোগান দিচ্ছেন, অন্যদিকে দলীয়ভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে তারা এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না এবং বিএনপিকে সমর্থন করবে। এই অবস্থান নিজেই একটি মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে— খাগড়াছড়ির নির্বাচনী বাস্তবতায় বিএনপিকে সমর্থন করা কি কার্যত ওয়াদুদ ভূইয়াকে সমর্থন করারই নামান্তর নয়?
যদিও জেএসএস–সন্তু লারমা দল সরাসরি ওয়াদুদ ভূইয়ার পক্ষে সমর্থনের কথা অস্বীকার করছে, তথাপি পরোক্ষভাবে বিএনপির পাহাড়ি প্রার্থী সমীরণ দেওয়ানের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে তারা দ্ব্যর্থক রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। বাস্তবতা হলো, খাগড়াছড়ি জেলায় জেএসএস–সন্তু লারমা দলের কোনো কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো বা জনভিত্তি নেই। ফলে এই জেলায় তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা মূলত প্রতীকী ও কৌশলগত বলেই প্রতীয়মান হয়।
রাজনৈতিকভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, জেএসএস–সন্তু লারমা দলের সংগঠিত কার্যক্রম মূলত রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ। ঐ দুই জেলায় বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে তারা নীরব থাকলেও খাগড়াছড়িতে এসে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করছে। এটি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করার একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবেই বিবেচিত হয়।
রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে হত্যার হুমকি এবং দীপেন দেওয়ানের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিপুল অর্থের বিষয়টি ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর লক্ষ্যে খাগড়াছড়িকে একটি ‘রাজনৈতিক পরীক্ষাক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে জেএসএস–সন্তু লারমা দলের বর্তমান তৎপরতা ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’-এর রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, জেএসএস–সন্তু লারমা দলের রাজনীতিতে দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়। প্রকাশ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলেও বাস্তবে ভিন্ন লক্ষ্য সাধনের নজির তাদের রাজনীতিতে বহুবার দেখা গেছে। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে কার্যত একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা এবং পরবর্তীতে সেই দায় অন্য রাজনৈতিক শক্তির ওপর চাপানোর ঘটনা তার একটি বড় উদাহরণ। সেই সময় জেএসএস–সন্তু লারমা দলের পক্ষ থেকে সংঘটিত নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— জেএসএস–সন্তু লারমা দলের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ একটি রাষ্ট্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেখানে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচন ছাড়াই সন্তু লারমার চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্বে থাকা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বাস্তবতা জেএসএস–সন্তু লারমা দলকে কার্যত একটি রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে। ফলে দলটির বিপ্লবী বা বিরোধী পরিচয়ের দাবির সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক আচরণের সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, জেএসএস–সন্তু লারমা দলের মূল কৌশল হলো— প্রকাশ্যে বিরোধিতার ভাষা ব্যবহার করে বাস্তবে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা। যে রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় বা ক্ষমতার নিকটবর্তী অবস্থানে থাকে, তাদের সঙ্গেই অবস্থান নেওয়াই দলটির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রবণতা। সন্তু লারমা ধরে নিয়েছেন যে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে; সে কারণেই তিনি লাগামহীনভাবে বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছেন। একইভাবে, যদি ঘটনাক্রমে জামায়াত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, তবে তাকেও সমর্থন দেওয়া হবে— এমন রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিতও পরিলক্ষিত হয়। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে সর্বমিত্র চাকমার ছাত্রশিবিরে অবস্থান পাকাপোক্ত রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জেএসএস–সন্তু লারমা দলের “ওয়াদুদ ঠেকাও” স্লোগান যতটা উচ্চকিত, বাস্তব রাজনৈতিক ফলাফল তার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে প্রবাহিত হচ্ছে— এমন ধারণাই আরও শক্তিশালী হয়। ফলে সাধারণ জনগণের জন্য আবেগী স্লোগান ও বাস্তব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের পার্থক্য অনুধাবন করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সর্বোপরি বলা যায়, জেএসএস–সন্তু লারমা দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একটি পরিচিত ধাঁচের পুনরাবৃত্তি— যেখানে দ্ব্যর্থক বক্তব্য, কৌশলগত নীরবতা এবং পরোক্ষ সমর্থনের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। এই বাস্তবতা অনুধাবন করাই সচেতন রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মূল ভিত্তি।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।