মারমা ঐক্য পরিষদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জাতির মধ্যে প্রশ্ন
বাংলাদেশের তিন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল একটি বিশেষ ও সংবেদনশীল ভূখণ্ড, যেখানে আদিকাল থেকে বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মারমা জাতির প্রতিনিধিত্ব দাবি করা সংগঠনগুলোর ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জাতির ভেতরে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সক্রিয় থাকা দুটি সংগঠন—বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ মারমা উন্নয়ন সংসদ—এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব সংগঠন নিজেদের মারমা জাতি ও সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিলেও, তাদের ঘোষিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং গঠনগত অবস্থান এখনো সাধারণ মারমা জনগণের কাছে স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারমা সমাজের বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের বর্তমান অবস্থান বিভ্রান্তিকর। কারণ সংগঠনটির দুটি ভিন্ন রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে—একটি মারমা পরিচয়ের স্বাধীন সংগঠন হিসেবে এবং অপরটি বিএনপির অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত বিএনপি (ওয়াদু ভুইয়া) গ্রুপ।
এ নিয়ে জাতির ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে, একটি জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক সংগঠন কেন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে যুক্ত হবে। পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং পাহাড়িদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ থাকা রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক মারমা জাতির স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
বর্তমান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। মারমা সমাজের সচেতন নাগরিকদের মতে, জাতির স্বার্থে এসব বিষয়ে স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা এখন সময়ের দাবি।
তারা বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া বহু ঘটনার স্মৃতি আজও পাহাড়ের জনগণ বহন করছে। ১৯৭৯–৮০ সালের ঘটনা, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন বাতিলের ষড়যন্ত্র, ১৯৯২ সালে ১০ এপ্রিল লোগাং গনহত্যা,১৯৯৩ সালের নান্যাচর গণহত্যা,১৯৮০ সালের ২৫ মার্চ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির কাউখালী (কলমপতি) গণহত্যা,রামসু বাজারের সহিংসতা, পবিত্র বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনা এবং কমলছড়িতে আম বাগান থেকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার দায় আজও নির্ধারিত হয়নি, আরো জানা অজানা অনেক ঘটনা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে।
মারমা সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাহাড়ে পাহাড়িদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় নিরূপণ না হলে ভবিষ্যতে শান্তি ও আস্থার পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়।
তাই জনগণের মনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।


