ঢাবিতে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ১৭তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ঐতিহাসিক বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ১৭তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টায় ‘শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হও; সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও দেশীয় দালালদের উৎখাত করো’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা ও একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা কমরেড রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক সঞ্জিত প্রসাদ জিতু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য হেমা চাকমা। সমাবেশে তৈয়ব ইসলাম বলেন, কৃষকরা অধিকার আদায়ের জন্য সার সংগ্রহ করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে। অথচ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিচার হচ্ছে না। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে চলে যাচ্ছেন, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে কাজ করানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, দেশের জাতীয় সম্পদ ও মেধার বিকাশের সুযোগ রুদ্ধ রেখে সরকার সাম্রাজ্যবাদের তোষকের ভূমিকা পালন করছে। তার দাবি, এতে দেশের অভ্যুত্থান ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে এবং অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে রান্নাও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্যের রাজনীতি, প্রশাসনের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অধিকারের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন হেমা চাকমা। ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক সঞ্জিত প্রসাদ জিতু বলেন, সংসদে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা, বাণিজ্য চুক্তি এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেল-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ‘রাজনীতি না করার’ কথা বলা হলেও কোন ধরনের রাজনীতি করা উচিত, সে বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফুলবাড়ী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফুলবাড়ীর জনগণ একা সেই আন্দোলন করেনি; বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনও এতে অংশ নিয়েছিল। নতুন সরকার আবারও সেই চক্রান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করে তিনি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ ছাত্র সংগঠন ও দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশের উদ্বোধক কমরেড রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং পরবর্তী গণসংগ্রামের উত্তরাধিকার বহন করে শিক্ষার্থীদের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক বিকাশের পরিবর্তে পশ্চাৎমুখী চিন্তাকে উৎসাহিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বস্তুবাদী, বাস্তববাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করার সংগ্রামকে গুরুত্ব দিতে হবে। সমাপনী বক্তব্যে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ এবং সাম্রাজ্যবাদের পাহারাদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের দখলদারিত্ব এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাকিস্তানপন্থি রাজনীতি পুরোনো ক্ষমতার কাঠামোকে নতুন রূপে হাজির করছে। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশ শেষে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর একটি মিছিল বটতলা থেকে শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ১৭তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
৩৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ঐতিহাসিক বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ১৭তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টায় ‘শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হও; সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও দেশীয় দালালদের উৎখাত করো’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা ও একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা কমরেড রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক সঞ্জিত প্রসাদ জিতু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য হেমা চাকমা।
সমাবেশে তৈয়ব ইসলাম বলেন, কৃষকরা অধিকার আদায়ের জন্য সার সংগ্রহ করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে। অথচ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিচার হচ্ছে না। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে চলে যাচ্ছেন, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে কাজ করানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের জাতীয় সম্পদ ও মেধার বিকাশের সুযোগ রুদ্ধ রেখে সরকার সাম্রাজ্যবাদের তোষকের ভূমিকা পালন করছে। তার দাবি, এতে দেশের অভ্যুত্থান ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে এবং অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে রান্নাও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্যের রাজনীতি, প্রশাসনের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অধিকারের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন হেমা চাকমা।
ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক সঞ্জিত প্রসাদ জিতু বলেন, সংসদে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা, বাণিজ্য চুক্তি এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেল-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ‘রাজনীতি না করার’ কথা বলা হলেও কোন ধরনের রাজনীতি করা উচিত, সে বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফুলবাড়ী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফুলবাড়ীর জনগণ একা সেই আন্দোলন করেনি; বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনও এতে অংশ নিয়েছিল। নতুন সরকার আবারও সেই চক্রান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করে তিনি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ ছাত্র সংগঠন ও দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশের উদ্বোধক কমরেড রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং পরবর্তী গণসংগ্রামের উত্তরাধিকার বহন করে শিক্ষার্থীদের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক বিকাশের পরিবর্তে পশ্চাৎমুখী চিন্তাকে উৎসাহিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বস্তুবাদী, বাস্তববাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করার সংগ্রামকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ এবং সাম্রাজ্যবাদের পাহারাদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের দখলদারিত্ব এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাকিস্তানপন্থি রাজনীতি পুরোনো ক্ষমতার কাঠামোকে নতুন রূপে হাজির করছে। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ শেষে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর একটি মিছিল বটতলা থেকে শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ১৭তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।