ঢাকাশুক্রবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পানছড়িতে জেএসএস(সন্তু)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

৮০

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে অবস্থানরত জেএসএস(সন্তু)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সেনাবাহিনী পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএসের একটি সশস্ত্র দল জগপাড়া-তারাবন এলাকায় এসে অবস্থান নেয়। এর পরবর্তী সময় থেকে সেনাবাহিনী তাদেরকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছে। সন্ত্রাসীরা সেখানে অবস্থান নেয়ার সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তায় টহল-তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য উল্টাছড়ি ইউনিয়নের মরাটিলা এলাকায় অভিযানের নামে তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি ঘেরাও, তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা ইউপিডিএফ সদস্যদের খোঁজ করে বলে জানা যায়। তবে জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থানের দিকে সেনাদের অপারেশন পরিচালনা করতে দেখা যায়নি।

এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর ৭০-৮০ জন সেনা সদস্য মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার নাামে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে তারাবন ও জগপাড়া এলাকায় প্রবেশ করে। কিন্তু তারা কোনো মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করেনি। উপরন্তু সেদিন রাতে তারা জগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাথে গোপন বৈঠক করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর দুটি টিম চেঙ্গী ইউনিয়নের যুবনাশ্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজকুমার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। তার আশে-পাশের এলাকায় অবস্থান করে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা।

পরে ১১ সেপ্টেম্বর সকালে সেনাসদস্যরা ড্রোনের মাধ্যমে যুবনাশ্বপাড়া ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি চালিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। সেনারা চলে যাওয়ার পর পরই জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ‍যুবনাশ্ব পাড়ায় প্রবেশ করে সশস্ত্র তৎপরতা চালায়। তারা গ্রামবাসীদের জিম্মি করে সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করে।

সেনারা যুবনাশ্ব পাড়া এলাকা থেকে চলে গেলেও পরবর্তীতে তারা আবার মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনার কথা বলে তারাবন-জগপাড়া এলাকায় সুগত বাপের আমবাগানে (সমিতি আমবাগান নামে পরিচিত) গিয়ে অবস্থান নেয়। গত এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে সেনারা সেখানে অবস্থান করে রয়েছে। একদল চলে গেলে আরেক দল এসে জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

দীর্ঘ সময় ধরে সেনাবাহিনীর এ ধরনের অবস্থানকে ঘিরে এলাকার জনজীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন এলাকায় অবস্থান করলে ভবিষ্যতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আরও বড় ধরনের জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অস্বস্তির পাশাপাশি ক্ষোভ, অসন্তোষও ক্রমাগত বাড়ছে।

এদিকে, আজ শুকবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৩টার সময় ৬টি গাড়িতে করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পানছড়ির বড়কোণা এলাকায় প্রবেশ করে। তারা বড়কোণা দোকান সংলগ্ন স্থানে গাড়িগুলো রেখে পায়ে হেঁটে স্থানীয় বৌদ্ধ ভাবনা কেন্দ্রের দিকে যায়। পরে সকাল ৭টার দিকে সেনারা সেখান থেকে ফিরে এসে আবারো পানছড়ি সদরের দিকে চলে যায় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

কিন্তু পার্শ্ববর্তী নাপিতা পাড়া, তাপিতা পাড়া এলাকায় জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করলেও সেনাবাহিনী সেদিকে যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, মূলত জেএসএস সন্ত্রাসীদের নিরাপত্তার জন্যই সেনারা এভাবে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

জেএসএস সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে জনগণ অতিষ্ঠ

গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পানছড়ির জগপাড়া-তারাবন এলাকায় প্রবেশের পর থেকে জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অপহরণ, হুমকি-ধমকিসহ নানা অত্যাচারে জনগণ অতিষ্ট হয়ে উঠছে।

জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে জেএসএস-এর একটি সশস্ত্র দল উল্টাছড়ি ইউনিয়নের কাতালমুনি পাড়ায় বাঙ্কার বানিয়ে অবস্থান করছে। সেখানে যাওয়ার পর তারা অস্ত্রের মুখে গ্রামবাসীদের মিটিঙে যেতে বাধ্য করে। এরপর গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে তুলে তাদের জন্য ৪টি ছাগল কিনে দিতে বাধ্য হয় গ্রামবাসীরা।

বর্তমানে গ্রামবাসীরা ছড়া থেকে পানি তুলে এনে তাদেরকে গোসল করার ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া সন্ত্রাসীরা গ্রামবাসীদের এমনও হুমকি দিচ্ছে যে, তাদের ওপর যদি ইউপিডিএফ আক্রমণ করে তাহলে তারা গ্রামবাসীদের ওপর গুলি চালাবে।

জেএসএস সন্ত্রাসীদের এমন অত্যাচারে গ্রামের লোকজন এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এবং আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অপরদিকে, তাদের আরো একটি সশস্ত্র দল পানছড়ি সদর ইউনিয়নের নাপিতা পাড়া ও তাপিতা এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে সেনাবাহিনী প্রতিনিয়ত টহল-তৎপরতা চালাচ্ছে।

এদিকে, গতকাল (২৪ সেপ্টেম্বর) জেএসএস সন্ত্রাসীরা পলাশ চাকমা (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে তাপিতা পাড়ায় ডেকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী পলাশ চাকমা পানছড়ি সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রাজ কুমার পাড়ার বাসিন্দা ভাত খিয়ে চাকমার ছেলে।

জানা যায়, জেএসএস সন্ত্রাসীরা পলাশ চাকমাকে তাপিতা পাড়ায় ডেকে পাঠায়। তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর সমাজপ্রিয় চাকমার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা দলবদ্ধভাবে তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করে। অথচ কিছুদিন আগেই সন্তু গ্রুপের একদল সশস্ত্র সদস্য টানা কয়েকদিন ধরে তার বাড়িতে অবস্থান করেছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই কায়দায় জেএসএস সন্ত্রাসীরা লোগাং ইউনিয়নের চাম্মে আদাম গ্রামের কার্বারী হিরণ কুমার চাকমা (৪৬) ও আরেক বাসিন্দা কান্দারা চাকমার ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল।

সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এতই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তারা এখন সরকারি বাহিনীর মতো প্রকাশ্যে সশস্ত্র অবস্থায় ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু প্রশাসন তাদেরকে কোনো কিছুই করছে না। এই সুযোগে সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম সংঘটিত করছে, জনগণের ওপর নিপীড়ন-অত্যাচার চালাচ্ছে।

প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও জেএসএস সন্ত্রাসীদের নানা অপকর্মে এলাকার জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ-অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।