এক বছরেও খোঁজ মেলেনি রাঙামাটিতে ‘অপহৃত’ কলেজ ছাত্র আলোড়ন চাকমার
রাঙামাটি সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র আলোড়ন চাকমা নিখোঁজ/‘অপহরণের’ শিকার হয়েছিলেন গত বছর ৩ অক্টোবর ২০২৫ বিকালে রাঙামাটি শহরের কল্যাণপুর এলাকা থেকে। সেদিন ভাড়া বাসা থেকে বাজার করতে বের হয়ে আর বাসায় ফিরে আসেননি। তৎসময় সেখানকার এক প্রত্যক্ষদর্শী কল্যাণপুরের একটি দোকান থেকে কয়েকজন লোক আলোড়নকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছিলেন। আজ তাঁর নিখোঁজ হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো কোন খোঁজ মেলেনি। আলোড়ন চাকমার বাড়ি কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়নের হাজাছড়ি গ্রামে। তার পিতার নাম প্রিয়ধন চাকমা ও মাতার নাম কল্পনা চাকমা। তিনি স্থানীয় আগমুলিম ক্লাব শিল্পী গোষ্ঠির একজন সদস্য ছিলেন। এলাকায় নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেখানে ভর্তি হতে না পেরে রাঙামাটি সরকারি কলেজে গণিত বিভাগে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। রাঙামাটি শহরের টিটিসি রোডের পিটিআই এলাকায় একজনের সাথে রুমমেট হিসেবে ভাড়া বাসায় থেকে কোন রকমে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, জেএসএস (সন্তু)-এর ছাত্র-যুব-নারী সংগঠনের কতিপয় সদস্য আলোড়কে অপহরণ করে গুম করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ ছিল যে, আলোড়নের সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধবরা যখন তার সন্ধানের দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলেন তখন জেএসএস (সন্তু) এর ছাত্র ও নারী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ল্যাপটপ কেড়ে নিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন। এ থেকে ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। আলোড়ন চাকমা নিখোঁজের পর কোথাও খুঁজে না পেয়ে ৫ অক্টোবর তাঁর বাবা প্রিয়ধন চাকমা রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন। কিন্তু পরদিন থানায় ডেকে পাঠিয়ে ওসি তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে জিডি প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেন। এ অভিযোগ প্রিয়ধন চাকমা নিজেই করেছেন। শুধু তাই নয়, আলোড়ন চাকমা যেদিন নিখোঁজ হন সেদিন তার রুমমেটের ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টও থানার ওসি মুছে ফেলতে বাধ্য করেন এবং তার বদলে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরে আরেকটি পোস্ট দিতে তাকে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের কোন সহযোগিতা না পেয়ে আলোড়ন চাকমার মুক্তি ও তাকে উদ্ধারের দাবিতে গত বছর ৯ অক্টোবর রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা সদরে ‘পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী ও হাজাছড়ি গ্রামবাসী’ এবং ‘আগমুলিম ক্লাব শিল্পী গোষ্ঠী” যৌথভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে আলোড়নের বাবা-মা ছেলেকে মুক্তির দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে কথা বলতে গিয়ে আলোড়ন চাকমার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তার ছেলেকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানান। আলোড়নের বাবা ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। কিন্তু এরপরও তাকে উদ্ধারে রাঙামাটি পুলিশ ও প্রশাসনের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। দীর্ঘ এক বছরেও আলোড়ন চাকমার কোন খোঁজ না পেয়ে তাঁর বাবা-মা ও পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব এবং এলাকার জনগণ হতাশ হয়েছেন। বিশেষত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাদেরকে আরো বেশি হতাশ করেছে। তাদের আশা ছিল প্রশাসন তৎপর হলেই তাঁরা আলোড়ন চাকমাকে ফিরে পাবেন। কিন্তু রাঙামাটি জেলা পুলিশ ও প্রশাসন তাকে উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রশাসনের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই গেল।
৪৬
রাঙামাটি সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র আলোড়ন চাকমা নিখোঁজ/‘অপহরণের’ শিকার হয়েছিলেন গত বছর ৩ অক্টোবর ২০২৫ বিকালে রাঙামাটি শহরের কল্যাণপুর এলাকা থেকে। সেদিন ভাড়া বাসা থেকে বাজার করতে বের হয়ে আর বাসায় ফিরে আসেননি। তৎসময় সেখানকার এক প্রত্যক্ষদর্শী কল্যাণপুরের একটি দোকান থেকে কয়েকজন লোক আলোড়নকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছিলেন। আজ তাঁর নিখোঁজ হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো কোন খোঁজ মেলেনি।
আলোড়ন চাকমার বাড়ি কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়নের হাজাছড়ি গ্রামে। তার পিতার নাম প্রিয়ধন চাকমা ও মাতার নাম কল্পনা চাকমা। তিনি স্থানীয় আগমুলিম ক্লাব শিল্পী গোষ্ঠির একজন সদস্য ছিলেন। এলাকায় নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেখানে ভর্তি হতে না পেরে রাঙামাটি সরকারি কলেজে গণিত বিভাগে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। রাঙামাটি শহরের টিটিসি রোডের পিটিআই এলাকায় একজনের সাথে রুমমেট হিসেবে ভাড়া বাসায় থেকে কোন রকমে পড়াশোনা করছিলেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, জেএসএস (সন্তু)-এর ছাত্র-যুব-নারী সংগঠনের কতিপয় সদস্য আলোড়কে অপহরণ করে গুম করেছেন।
তাদের বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ ছিল যে, আলোড়নের সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধবরা যখন তার সন্ধানের দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলেন তখন জেএসএস (সন্তু) এর ছাত্র ও নারী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ল্যাপটপ কেড়ে নিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন। এ থেকে ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।
আলোড়ন চাকমা নিখোঁজের পর কোথাও খুঁজে না পেয়ে ৫ অক্টোবর তাঁর বাবা প্রিয়ধন চাকমা রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন। কিন্তু পরদিন থানায় ডেকে পাঠিয়ে ওসি তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে জিডি প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেন। এ অভিযোগ প্রিয়ধন চাকমা নিজেই করেছেন।
শুধু তাই নয়, আলোড়ন চাকমা যেদিন নিখোঁজ হন সেদিন তার রুমমেটের ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টও থানার ওসি মুছে ফেলতে বাধ্য করেন এবং তার বদলে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরে আরেকটি পোস্ট দিতে তাকে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের কোন সহযোগিতা না পেয়ে আলোড়ন চাকমার মুক্তি ও তাকে উদ্ধারের দাবিতে গত বছর ৯ অক্টোবর রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা সদরে ‘পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী ও হাজাছড়ি গ্রামবাসী’ এবং ‘আগমুলিম ক্লাব শিল্পী গোষ্ঠী” যৌথভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে আলোড়নের বাবা-মা ছেলেকে মুক্তির দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে কথা বলতে গিয়ে আলোড়ন চাকমার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তার ছেলেকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানান। আলোড়নের বাবা ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
কিন্তু এরপরও তাকে উদ্ধারে রাঙামাটি পুলিশ ও প্রশাসনের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।
দীর্ঘ এক বছরেও আলোড়ন চাকমার কোন খোঁজ না পেয়ে তাঁর বাবা-মা ও পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব এবং এলাকার জনগণ হতাশ হয়েছেন। বিশেষত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাদেরকে আরো বেশি হতাশ করেছে। তাদের আশা ছিল প্রশাসন তৎপর হলেই তাঁরা আলোড়ন চাকমাকে ফিরে পাবেন। কিন্তু রাঙামাটি জেলা পুলিশ ও প্রশাসন তাকে উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রশাসনের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই গেল।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।