• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
মহালছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যের বাড়িতে সেনাবাহিনীর তল্লাশি সাজেকে শান্তিপূর্ণ অবরোধে হামলার বিচার ও ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ সাজেকে শান্তিপূর্ণ অবরোধে হামলার প্রতিবাদ জানালেন ২১ হেডম্যান, কার্বারী ও জনপ্রতিনিধি চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথে লাদেন চাকমাকে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে মারধরের অভিযোগ সাজেকবাসীর পাঁচ দফা দাবিকে সমর্থন পাঁচ সংগঠনের মাচলঙে বাড়ি তল্লাশির অভিযোগ, আটকের চেষ্টা এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝর্ণা চাকমাকে কুমারী পাড়ায় ৬ গ্রামবাসীর বাড়িতে সেনাবাহিনীর তল্লাশি, হয়রানির অভিযোগ রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের অবরোধ পালিত সাজেকবাসীর ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির পক্ষে বঙ্গলতলিতে মশাল মিছিল

মাচলঙে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর স্কুলছাত্রী ঝর্ণা চাকমাকে খুঁজছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট / ৫৭৭ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

৬২৪

রাঙামাটির সাজেকে গত ১১ অক্টোবর সড়ক অবরোধ পালনকালে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঝর্ণা চাকমা নামে ১০ম শ্রেণির (এসএসসি পরীক্ষার্থী) এক শিক্ষার্থীকে খোঁজ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৯টার সময় বাঘাইহাট জোন থেকে ২টি পিকআপ যোগে একদল সেনা সদস্য মাচলঙ ডিপুপাড়ায় গিয়ে ঝর্ণা চাকমাকে খোঁজ করে। তারা সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাকে ডেকে ঝরণা চাকমাকে মাচলঙ ক্যাম্পে দেখা করতে বলেছেন বলে জানা গেছে। এতে সেখানকার স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝর্ণা চাকমা এ প্রতিবেদককে জানান, আজ সকালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের গ্রামে এসে লোকজনের কাছ থেকে সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমি কোথায় থাকি, কি করি ইত্যাদি নাকি তারা জিজ্ঞাসা করেছে। কিন্তু কেন, কী উদ্দেশ্যে তারা আমাকে খুঁজতেছে তা আমি জানি না। তবে, আমার ধারণা গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের ডাকে সড়ক অবরোধ পালনের সময় উজোবাজার এলাকায় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাৎকার দেওয়া ও বাঘাইহাট জোনের টুআইসি মো. সালমানের সাথে কিছুটা তর্কাতর্কি হওয়ার কারণে হয়তো তারা আমাকে খুঁজতে পারে।”

তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী আমার সাথে কথা বলতে চাইলে সাজেকের জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বীদের ছাড়া আমি কথা বলবো না। সেনাবাহিনী আমার কিংবা জনগণের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে না।”

এছাড়া সীমা চাকমা নামে আরেকজন শিক্ষার্থীকেও সেনারা খোঁজ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাক অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝর্ণা চাকমা। সেদিন তিনি সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকার দিয়ে অবরোধ বিষয়ে কথাবার্তা বলেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাজেকে নিপীড়ন-নির্যাতন, ঘরবাড়িতে হয়রানিমূলক তল্লাশি-ভাঙচুর এবং অবরোধ পালনকালে “সন্ত্রাসী” আখ্যা দিয়ে তাদেরকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার কথা তুলে ধরেছিলেন।

পরে সেদিন বিকালে স্থানীয় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে অবরোধকারীদের সাথে কথা বলে তিন দফা শর্তে দুই সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ৪৮ ঘন্টার জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। সেই শর্তগুলোর মধ্যে ৩ নাম্বার শর্তটি হচ্ছে, ‘সেনা প্রশাসন কর্তৃক সাধারণ নিরীহ জনগণের ঘর-বাড়ি তল্লাশি ও হয়রানি করা যাবে না।’

এদিকে, নারী শিক্ষার্থীদেরকে সেনাবাহিনীর এমন হুমকিমূলকভাবে খোঁজ করার কারণে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলেছেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান সেই অধিকার নাগরিকদের দিয়েছে। তাই সেনাবাহিনী হুমকি, ভয়ভীতি দেখিয়ে কোন নাগরিকের বাক স্বাধীনতা হরণ করতে পারে না। এটা সংবিধান ও মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী।

এলাকাবাসী শিক্ষার্থী ঝর্ণা চাকমাকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার জন্য সেনাবাহিনী ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd